ভারতের বাজারে সুপার ফ্লপ অথচ বিদেশে সুপারহিট, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’কে পিছনে ফেলে বিদেশে জয় জয় কার ‘লাল সিং চাড্ডার’

প্রায় চার বছর পর ক্যামেরার সামনাসামনি হয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান কিন্তু এইভাবে সকলের ঘৃণার পাত্র যে হতে হবে তা কখনো হয়তো দুঃস্বপ্ন ভাবতে পারেননি তিনি। তবে আমির খান কেন, এ যাবৎ বলিউডের প্রথম সারির নায়ক যেমন অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে অক্ষয় কুমার, সকলের সিনেমায় মুখ থুবড়ে পড়েছে বক্স অফিসে। তবে লাল সিং চাড্ডা সিনেমাটি বক্স অফিসে ফ্লপ হবার আরো একটি কারণ হল এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই জনগণ বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন।

বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি মাত্র ১৩ দিন পরেই একটি চূড়ান্ত ফ্লপ সিনেমা হিসেবে নিজেকে প্রমাণিত করল। প্রায় দুই সপ্তাহ অতিক্রম হয়ে গেলেও মাত্র ৫৭.৮৪ কোটি টাকা আয় করতে পেরেছে এই সিনেমাটি। আদৌ এই সিনেমাটি ১০০ কোটি টাকার গণ্ডি পেরোতে পারবে কিনা সন্দেহ। তবে ভারতে যে সিনেমাটি চূড়ান্ত একটি ফ্লপ সিনেমা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, সেটি কিন্তু বিদেশের মাটিতে হয়েছে সুপাহিট সিনেমা।

যেকোনো বিগ বাজেটের ছবির ক্ষেত্রেই অন্য দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা আয় হবার একটি সম্ভাবনা থেকে যায়। এর আগে আমির খান অভিনীত দঙ্গল সিনেমাটির বেশিরভাগ আয় এসেছিল চীন থেকে। তেমনি লাল সিং চাড্ডা এক্ষেত্রেও অসাধ্য সাধন করেছে। ভারতীয় দর্শক যে সিনেমাটি বয়কট করার ডাক দিয়েছিল সেই সিনেমাটি বিদেশের মাটিতে সুপারহিট হয়েছে। বলা চলে, সিনেমাটির আয় যদি বৃদ্ধি পায় তা একমাত্র হবে বিদেশি দর্শকদের কল্যাণে।

মুক্তির পর থেকে এখনো পর্যন্ত সারা বিশ্ব থেকে ৭.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে আমির খান, কারিনা কাপুর খান এবং নাগা চৈতন্য অভিনীত সিনেমাটি। ভারতীয় মুদ্রায় ৫৯ কোটি টাকা আয় করেছে এই সিনেমাটি বিদেশী মুদ্রায়। একইসঙ্গে এই সিনেমাটি পিছনে ফেলে দিয়েছে কাশ্মীর ফাইলস, গাঙ্গুবাই কাঠিয়া বাড়ি এবং ভুলভুলাইয়া ২ – এর মত সিনেমা গুলিকে। যেখানে গাঙ্গুভাই উপার্জন করেছে ৭.৮৭ মিলিয়ন, ভুলভুলাইয়া টু উপার্জন করেছে ৫.৮৮ মিলিয়ন এবং দা কাশ্মীর ফাইলস উপার্জন করেছে ৫.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তবে এই সমস্ত সিনেমাগুলি বক্স অফিসে দারুণভাবে ব্যবসা করেছিল কিন্তু লাল সিং চাড্ডার ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারে অন্যরকম। তবে বলিউডের অনেক সিনেমাকে পেছনে ফেলে দিলেও এখনো পর্যন্ত আর আর আর সিনেমাটিকে পেছনে ফেলতে পারেনি এই সিনেমাটি। রামচরণ এবং জুনিয়র এনটিআর অভিনীত সিনেমাটিকুড়ি মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল।

তবে এতকিছুর পরেও ১৮০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি ৬০ কোটি টাকা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বড় পর্দায় এই সিনেমাটির এমন পরিস্থিতি দেখার পর ও টি টি প্ল্যাটফর্মগুলি এই সিনেমার ডিজিটাল রাইটসও কিনতে চাইছে না।