Skip to content

জানুন কে এই MBA Chaiwala, যিনি ২২ মাত্র বছর বয়সেই চা বিক্রি করে হয়েছেন কোটিপতি, বিদেশেও খুললেন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি

আমাদের দেশে সবথেকে ছোট এবং সাফল্যদায়ক ব্যবসা হল চায়ের দোকানের ব্যবসা। আমাদের ভারতবর্ষের গ্রাম থেকে শহর প্রত্যেক জায়গায় প্রত্যেক মানুষ কম বেশি চা পান করতে ভালোবাসেন তাই আপনি যদি স্টেশনে বা রাস্তার ধারে একটি চায়ের স্টল খুলে বসেন তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার আয় মন্দ হবে না।

ছোটবেলায় আমরা যখন পড়াশুনা করতাম না তখন আমাদের বাবা মা বলতেন যে পড়াশোনা না করলে এটি চায়ের দোকান খুলে বসবো কারণ সেই সময় হয়তো তাদের মনে এমন ধারণা ছিল যে চায়ের দোকান মানে খুব কষ্টে দিন গুজরান করা। কিন্তু এখন সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পাল্টে গেছে। এখন একজন চাওয়ালা দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন আবার হতে পারেন একজন কোটিপতি।

তেমনি একজন চা ওয়ালা সম্পর্কে আজ আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রফুল্ল বিল্লার, এমন একজন চা ওয়ালা যিনি ভারতের পাশাপাশি বিদেশে এমবিএ চাওয়ালা নামে বিখ্যাত। প্রফুল্লর গল্প এতটাই মজাদার যে তার জীবন নিয়ে যদি কখনো কোন বলিউডের সিনেমা তৈরি হয়ে যায় তাহলে অবাক হবেন না আপনি। একটি সামান্য চায়ের দোকান থেকে আজ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন তিনি।

প্রফুল্ল আমেদাবাদের একজন খুব সাধারণ ছেলে। এমবি শেষ করার পর তিনি ভেবেছিলেন তিনি খুব একটি ভালো চাকরি পেয়ে যাবেন কিন্তু তা হয় না।ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তিনি দিল্লি মুম্বাই-এর মত বড় বড় শহরে ঘুরে বেড়ান কিন্তু সেভাবে সাফল্যবান না তিনি। অবশেষে নিরাশ প্রফুল্ল আমেদাবাদে ফিরে আসেন এবং ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি করতে শুরু করেন।

এমবিএ ডিগ্রী করার পর যেখানে প্রফুল্ল ভেবেছিলেন যে তিনি একটি মোটা অংকের মাইনের চাকরি পাবেন সেখানে যখন তিনি হতাশ হলেন তখন তার মাথায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করার চিন্তা ভাবনা আসে। ম্যাকডোনালসে চাকরি করতে করতেই তিনি ভাবেন তিনি চায়ের ব্যবসা শুরু করবেন। যেমন বাবা তেমন কাজ। বাবাকে এবং পরিবারের সকলকে মিথ্যা কথা বলে তিনি চায়ের ব্যবসা শুরু করে দেন।

প্রফুল্ল বাবার কাছে পড়াশোনার নামে দশ হাজার টাকা নিয়ে নিজের স্ট্যাটাস শুরু করে দেন। সারা জীবন অন্যের অধীনে চাকরি করতে চাইতেন না প্রফুল্ল। প্রফুল্ল ভেবেছিলেন, নিজের জীবনে সাফল্য অর্জন করতে গেলে সেই পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে। এরপর তিনি চায়ের স্টল খুলে বসেন এবং নাম দেন এমবিএ চাইওলা। প্রফুল্ল নিজের ক্রেতাদের শুধুমাত্র চা সার্ভ করতেন তা কিন্তু নয়, তিনি নিজের চায়ের দোকানে সকলের সঙ্গে পড়াশোনা নিয়েও আলোচনা করতেন। এইভাবে কিছু মাসের মধ্যেই প্রফুল্লের কথা জেনে যান বহু মানুষ এবং ধীরে ধীরে তিনি এমবিএ চায়েওয়ালা নামে বিখ্যাত হয়ে যান।