মাত্র ১৩ বছর বয়সে হারিয়েছিলেন নিজের মা-বাবা, আজ ৩৪ জন অনাথ শিশুর মা বলি অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা

বলি তারকাদের অভ্যন্তরীণ খবর জানার জন্য সবসময় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি আমরা। তারকারা কিভাবে নিজেদের দৈনন্দিন জীবন কাটাচ্ছেন, কিভাবে কার সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন, কেনই বা বিবাহবিচ্ছেদ অথবা সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়েছে, সেটা জানার জন্য অধীর আগ্রহে আমরা সব সময় অপেক্ষা করে থাকি। কিছু কিছু সেলিব্রিটি এমন রয়েছেন যারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে ভালবাসে না আবার কোন কোন সেলিব্রিটি এমন থাকেন যারা অকপটে সবকিছু স্বীকার করে নেন সকলের সামনে।

এই গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের সব থেকে প্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা। একসময় বি-টাউনের সবথেকে সুন্দরী অভিনেত্রী ছিলেন তিনি, তবে আজ সেই ভাবে বলিউড দুনিয়া সঙ্গে যুক্ত নন তিনি। বলিউডের ডিম্পল গার্ল প্রীতি জিন্টা ইন্ডাস্ট্রির সফল অভিনেত্রী দের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। বহুবার ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সারোগেসির মাধ্যমে মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করেছেন এই অভিনেত্রী। যমজ সন্তানের অভিভাবক হয়েছেন এই দম্পতি। বৈচিত্র্যময় এই অভিনেত্রীর জীবন যার কিছুটা অংশ আজ সকলের সামনে তুলে ধরব আমরা। ১৯৭৫ সালে ১৩ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন প্রীতি জিন্টা। প্রীতি জিন্টার বাবা ছিলেন একজন ভারতীয় সেনা অফিসার। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন প্রীতি জিন্টার মাও।

ওই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রীতি জিন্টার মা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু দু বছর পর্যন্ত শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। প্রীতির মা নীলপ্রভা জিন্টা দুই বছর অসহ্য কষ্ট সহ্য করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রীতি জিন্টার জীবনে নেমে আসে বড়োসড়ো যুদ্ধ। লক্ষ্য স্থির রেখে তিনি এগিয়ে গেছেন সম্পূর্ণ একা।

অনেকেই হয়তো জানেন না, অভিনেত্রী খুব অল্প বয়স থেকে মডেলিং শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনে কাজ করতে আরম্ভ করেন। ১৯৯৮ সালে “দিল সে” সিনেমার হাত ধরে বলিউড জগতে পদার্পণ করেছিলেন তিনি। এই সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রীতি জিন্টা এবং মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মনীষা কৈরালা এবং শাহরুখ খান। এরপর কার্যত পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি অভিনেত্রীকে।

কোই মিল গেয়া, কেয়া কেহেনা, কাভি আলবিদা না কেহেনা, ভীর জারার মতো একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমা তিনি সকলকে উপহার দিয়েছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বিবাহের পর বেছে নিয়েছেন নিজের পরিবার এবং সন্তানদের। বর্তমানে তিনি আইপিএল খেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে হৃষিকেশ থেকে তিনি ৩৪ জন শিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন। নিজের জন্মদিনের দিন এই শুভ কাজ করেছিলেন তিনি এবং প্রত্যেক বছরে শিশুদের দেখতে আসেন তিনি। এই অসাধারণ কাজ করার জন্য প্রীতি জিন্টাকেই গডফ্রে ফিলিপস ন্যাশনাল ব্রুয়ারি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছে।