একসময় গরীব দেশের তালিকায় থাকা দেশ আজ বিশ্বের ধনী দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, নেই কোনো করের সিস্টেম, এভাবেই বদলে গেল কাতারের ভাগ্য!

২০২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে হয়েছে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ (Fifa World Cup)। এই বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কাতার। ফুটবল বিশ্বের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় কাতার, সম্প্রতি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের দায়িত্ব পড়েছে কাতারের উপর। এখানে পরিস্থিতি এই ছোট্ট দেশটির প্রাণপণ চেষ্টা করছে নিজেদের মুখ রক্ষা করার। আজ এই ছোট্ট দেশটি সম্পর্কে কয়েকটি কথা আপনাদের জানাবো।

খুব কম মানুষই জানেন, যে কাতার আজ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজনকারী দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সেই দেশ একসময় ভীষণ দরিদ্র ছিল। মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার এই দেশে দারিদ্র কোন নতুন বিষয় ছিল না। আজ এই দেশে কোন দরিদ্র মানুষ আপনি খুঁজে পাবেন না এমনকি এই দেশের মানুষকে আয়করও দিতে হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এই দরিদ্র দেশ আজ সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে নিজেকে প্রমাণ করেছে।

তিন দিক দিয়ে সাগর দ্বারা বেষ্টিত এই দেশের একদিকে রয়েছে সৌদি আরব। এই দেশে প্রথমে তুরস্ক এবং পরে বৃটেনের রাজত্ব ছিল। ১৯৭১ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হয় কাতার। স্বাধীনতার পরেও দেশের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এই দেশের শাসকরা অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতেন। ফলস্বরূপ আজ আমেরিকা দুবাই বা সৌদি আরবের থেকেও বেশি ধনী ব্যক্তি কাতারে বাস করেন।

আজ এই দেশের প্রতি তৃতীয় ব্যক্তি একজন কোটিপতি এবং প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তি বছরে ৯৪ লক্ষ টাকা আয় করেন। আয়ের দিক থেকে বেশি কাতারের অবস্থান পঞ্চম। এই দেশের জনসংখ্যা ২৮ লাখ যার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ অর্থাৎ ৩,৩৬,০০০ এই দেশের অধিবাসী। প্রায় ৫০ বছর আগে কাতার যখন স্বাধীন হয়েছিল তখন এত সমৃদ্ধ দেশ ছিল না এই দেশ। তখন শুধু বালি দেখা যেত যত্রতত্র। ১৯৫০ সালে, কাতারের মাটিতে তেল এবং গ্যাসের খনি আবিষ্কার হয় এবং তারপর রাতারাতি ভাগ্য খুলে যায় এই দেশের।

প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে কাতার। এটি বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানি কারক দেশ। এই দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ জল বা চিকিৎসার জন্য কোন মূল্য দিতে হয় না। সবটাই থাকে বিনামূল্যে।