Skip to content

মৃত্যুর পর সন্তানদের জন্য কত টাকার সম্পত্তি রেখে গেলেন গায়ক KK, জানুন বিস্তারিত

কাল রাতে হয়তো বহু মানুষ ঘুমাতে পারেননি যাদের জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে কেকের গান শুনে। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তিনি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষকে আনন্দ দিয়ে গেলেন নিজের গানের মাধ্যমে। গতকাল কলকাতায় সংগীত অনুষ্ঠান যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। প্রচণ্ড গরমে কিছুটা অসুস্থ বোধ করেছিলেন শো চলাকালীন। অনুষ্ঠানের পর হঠাৎ করেই ঘামতে শুরু করেন এবং অসুস্থ বোধ করেন সংগীতশিল্পী। গ্র্যান্ড হোটেলে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। হাসপাতাল পক্ষ থেকে গায়ককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

কলকাতাবাসী আগে থেকেই জানতেন নজরুল মঞ্চে উপস্থিত হতে চলেছেন কে কে। সঙ্গীত শিল্পীর আগমনের জন্য ভীষণ ভাবে উত্তেজিত হয়ে ছিলেন সকলেই। স্বাভাবিক মৃত্যু গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই যেন মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ এই খবরটি। কিভাবে এত বড় ক্ষতি হয়ে গেল সকলের তা সত্যি আমাদের বোধগম্যর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেলো।

আজ এই প্রতিবেদনে আপনাদের সামনে তুলে ধরব সঙ্গীতশিল্পীর ক্যারিয়ার সম্পত্তি এবং পরিবার সম্পর্কে কিছু অজানা কথা। গায়কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার। স্বাভাবিকভাবেই গানের মাধ্যমে তিনি নিজের বিরাট বড় সম্পত্তি অর্জন করেছিলেন। একটি হিন্দি গানের জন্য তিনি পারিশ্রমিক নিতেন ৪ লাখ টাকা। ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম গানের জগতে পদার্পণ করেছিলেন। চার বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ৩৫০০ টির বেশি গান গেয়েছিলেন।

তিনি প্রথম মুম্বাইতে ইউটিভি থেকে জিংগেল গাওয়ার জন্য প্রথম বিরতি পেয়েছিলেন। প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে এ আর রহমানের হিট গান কল্লুরি সাল এবং হ্যালো ডক্টর দিয়ে লঞ্চ হয়েছিলেন তিনি। সালমান খানের বিখ্যাত সিনেমা “হাম দিল দে চুকে সানাম” সিনেমার বিখ্যাত গান, “তারাপ তারাপ কে ইস দিল কে”, গানের মাধ্যম দিয়ে বলিউডে ডেভিউ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি এবং একটি গানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন কে কে।

যদিও এর আগে তিনি ছোর আয় হাম হে গালিয়া, গানের একটি ছোট্ট অংশ গেয়েছিলেন। কিন্তু বড় বিরতি পেয়েছিলেন তিনি সালমান খানের সিনেমার হাত ধরে। সঙ্গীত শিল্পীর জন্ম দিল্লিতে। দিল্লিতে শৈশব কেটেছে তাঁর। তিনি দিল্লির মাউন্ট সেন্ট মেরি স্কুল এর প্রাক্তন ছাত্র এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরি মাল কলেজের স্নাতক।

বলিউডে ডেভিউ করার আগে তিনি প্রায় ৩,৫০০ টি জিংগেল গিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে সমর্থন করার জন্য তিনি ভারত কে জোশ, গানটি গেয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিবাহ করেন প্রেমিকা জ্যোতিকে। একমাত্র ছেলে নকুল কৃষ্ণ কুন্নাথ বাবার সঙ্গে হামসাফার অ্যালবামের একটি গান গেয়েছিলেন। সংগীতশিল্পী কন্যা সন্তান তমরা কুন্নথ বাবার সঙ্গে পিয়ানো বাজাতে পছন্দ করতেন।