এক সময় মাত্র ৫ হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলেন মুম্বাই তারপর এই ভাবে পার করেন করোনা‌ কালে গরিবদের মসিহা হওয়ার সফর: সোনু সুদ

অভিনেতা সোনু সুদ তাঁর রিল লাইফের জন্য খুব বেশি জনপ্রিয়তা পাননি, কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি যা করেছেন তারপরে তিনি মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।করোনার সময় সোনু সুদ যেভাবে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন, তারপর থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। যে কারও সমস্যাই হোক না কেন, বিষয়টি সোনু সুদের কাছে পৌঁছলে তিনি সেই সমস্যা দূর করেন। করোনার পরবর্তী সময়ে সোনু সুদের ভক্তের সংখ্যা বেড়েছে। আজ আমরা অভিনেতা সোনু সুদের জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিশেষ কিছু কথা বলতে চলেছি।

সোনু সুদ ১৯৭৩ সালের ৩৯শে জুলাই পাঞ্জাবের মোগায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি নাগপুর যান এবং সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সময়ই তিনি অভিনয় এবং মডেলিংয়ের কথা ভেবেছিলেন। তারপরে তিনি মুম্বাই আসেন। মাত্র ৫ হাজার টাকা নিয়ে মুম্বাইয়ে পা রেখেছিলেন সোনু সুদ। সোনু সুদের সিনেম্যাটিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল হিন্দি নয়, তামিল সিনেমা দিয়ে। সোনু সুদের তামিল ডেবিউ ফিল্ম ছিল ‘কাল্লাঝাগর’ এবং হিন্দি ডেবিউ ফিল্ম ছিল ‘শহীদ-ই-আজম’।

সোনু সুদ একজন প্যান ইন্ডিয়া অভিনেতা এবং তামিল, তেলেগু, কন্নড়, হিন্দির পাশাপাশি ইংরেজি এবং আরবি সিনেমায় কাজ করেছেন। সোনু সুদ বেশিরভাগ নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘দাবাং’ থেকে ‘সিম্বা’ পর্যন্ত সোনু তাঁর নেতিবাচক চরিত্র দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। মানুষের একটি মাত্র একটি টুইটে সোনু সুদ মানুষকে সাহায্য করেছেন। প্লেন থেকে শুরু করে বাস ট্রেনের বন্দোবস্ত থেকে শুরু করে চাকরি এবং মানুষের জন্য খাবার ও জলের ব্যবস্থা করেন সোনু সুদ। কেউ সোনু সুদের নামে দোকান খোলেন, আবার কেউ তার নবজাতকের নাম রেখেছেন সোনু। সোনু সুদ শুধু দেশেই নয় বিদেশেও ভারতীয়দের সাহায্য করেছেন।

সোনু সুদ প্রায়ই খবরে থাকেন, আবার অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী সোনালী, লাইমলাইট থেকে দূরে থাকেন। সোনু পাঞ্জাবি হলেও সোনালী দক্ষিণ ভারতীয়। সোনালী সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে সোনু বলেন যে, সোনালী তাঁর জীবনে আসা প্রথম মেয়ে। ১৯৯৬ সালে সোনু ও সোনালীর বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুটি ছেলে রয়েছে। সোনালী বলিউডের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন এবং খুব কমই মিডিয়ার সামনে আসেন। সোনু সুদ একজন নিখুঁত পারিবারিক মানুষ এবং তিনি প্রায়শই তাঁর বাচ্চাদের সাথে সময় কাটান। আপনাকে বলি যে, সোনু সুদ বাস্তব জীবনেও বেশ সরল বলে মনে করা হয়।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, সোনু সুদের গাড়ি সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে পোর্শে পানামেরা এবং মার্সিডিজ বেঞ্জ এমএল ক্লাস। অন্যদিকে সোনু সুদ একটি সিনেমার জন্য ২ কোটি টাকা নেন। এর সাথে, ডিএনএর একটি রিপোর্ট অনুসারে, সোনু সুদ ১৩০.৩৩৯ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। সোনু সুদও তাঁর ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে প্রোডাকশন হাউস চালান। উল্লেখ্য, সিনেমার সুপারফিট অভিনেতাদের মধ্যে সোনু সুদের নাম অন্যতম। সোনু সুদ একজন দুর্দান্ত ব্যক্তিত্বের মালিক এবং একজন ফিটনেস ফ্রিক। সোনু সুদ শরীর ফিট রাখতে জিম করেন। সোনু সুদ তাঁর জিমিংয়ের ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকবার শেয়ার করেছেন। সোনুর সঙ্গে তার ছেলেকেও কিছু পোস্টে দেখা গেছে, যা ভক্তরা খুব পছন্দ করেছেন।