কীভাবে-কবে চালু হয়েছিলে চিকেন খাওয়া? সামনে এল অবাক করা তথ্য

আজ আমরা আলোচনা করব মুরগি সম্পর্কে, কিভাবে মানুষ চিকেন খাওয়া শুরু করল সেই কাহিনী জানবো আজ আমরা। আমরা প্রত্যেকেই জানি মানুষ মুরগি প্রতিপালন করত, কিন্তু কেন প্রতিপালন করত সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য এতদিন আমরা জানতে পারিনি। তাই নানান প্রশ্ন ওঠে যে মুরগি দেখতে ভালো ছিল বলে কী প্রতিপালন করত? নাকি অন্য কিছু। তারপর ধরুন প্রতিপালন করা মুরগি হঠাৎ করে খাদ্য তালিকায় কিভাবে এলো? এবং কিভাবে জনপ্রিয় খাবার হয়ে উঠল, আসুন জানবো আজ সেই সম্পর্কেই নানান মজাদার গল্প।

ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে নানান দেশে গবেষণা চালিয়েছেন এবং সে গবেষণাতে উঠে এসেছে নানান মজার মজার গল্প, ১০ হাজার বছর আগে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা ভারতে মুরগি পালন শুরু হয় এবং মুরগি খাওয়ার প্রচলন শুরু হয় ৭ হাজার বছর আগে। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সাল নাগাদ হাঁস-মুরগী পালন শুরু হয়, হিসাব মত আজ থেকে প্রায় ৩৫২২ বছর আগের ঘটনা যখন ভিয়েতনাম মায়ানমার থাইল্যান্ড কম্বোডিয়াতে মুরগি প্রতিপালন শুরু হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে যে তথ্য তাহল, চীন এবং ইউরোপে হাজার হাজার বছর আগেও মুরগি প্রতিপালন করা হতো না, এই সমস্ত গবেষণায় যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা যুক্ত ছিলেন তাঁরা হলেন অক্সফোর্ড, জার্মানির, মিউনিখ, ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এবং তাঁরা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান গুলিও পরীক্ষা করেন, মোট ৮৯ টি দেশের ৬০০ টি স্থান তাঁরা পরীক্ষা করেছেন, সেখান থেকে মুরগির বিভিন্ন দেহাবশেষ নিয়েও গবেষণা করেন।

তাঁরা মুরগির হাড়গুলির অভ্যন্তরীণ গঠন দেখে সেখানকার সংস্কৃতি এবং সমাজের ইতিহাস সম্পর্কেও জানতে পেরেছেন। ইউরেশিয়া এবং উত্তর-পশ্চিমে আফ্রিকা থেকে যে সমস্ত মুরগির হাড় পাওয়া গেছে সেগুলি ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের বলে জানা গেছে এবং সেই সমস্ত মুরগিগুলোকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নিয়েও যাওয়া হয়েছিল। এভাবে কেটে যায় আরো হাজার বছর, ততদিনে মুরগি পৌঁছে যায় আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্ক্যান্ডিনেভিয়া। এই সমস্ত ঘটনা আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো, ফলে দেশি মুরগি থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এমনকি সমুদ্রপথে গ্রিস, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশেও পৌঁছে যায়।

তবে এই গবেষণাকে ঘিরে মুরগি এবং মানুষের সম্পর্কে সাথে ধান চাষের সম্পর্কও উঠে এসেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধান চাষের সময় লাল জঙ্গল ফাউলকে প্রায়শই দেখা যেত, এই লাল জঙ্গল ফাউল হলো এক ধরনের মুরগির মতো দেখতে পাখি, যারা চাল চুরি করত। ধীরে ধীরে তাদের সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদেরকে প্রতিপালন শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে দেশি মুরগিতে পরিণত হয়।

তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ববিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক গ্রেগর বলেন লৌহ যুগেও মোরগ ইউরোপের খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেই সময়কার মানুষ মুরগিকে পবিত্র বলে মনে করতেন, যে কারণে সেই সময়ে মুরগি হত্যারও কোনো প্রমাণ এখন অব্দি পাওয়া যায়নি, বরং রোমান সাম্রাজ্যের সময়ে মুরগি এবং ডিম মানুষের খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর পরই মুরগি হত্যা বাড়তে থাকে, বলা চলে এই গবেষণা অনেক সত্যকে সামনে এনেছে, ফলে মানুষের মনের অনেক ভুল-ভ্রান্তি ধারণা ভেঙে গিয়েছে।