আপনি কী জানেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি চা সম্পর্কে, যার দাম সোনার থেকেও ২০ গুন বেশি

আমরা ভারতীয়। আমরা চা পান করতে ভীষণ ভালোবাসি। এক কাপ চায়ের জন্য মানুষ কয়েক মাইল পাড়ি দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না। সকালে এক কাপ চা না পেলে সারাদিনের আলস্য দূর হয় না। তবে চায়ের চাহিদা অনুযায়ী এখন বাজারে বিভিন্ন দামের চা আপনি পেয়ে যাবেন। কিছু দামি কিছু সস্তা, সব রকম চা আপনি পেয়ে যাবেন বাজারে। কিন্তু আজ এমন একটি চা পাতার কথা বলতে যাচ্ছি, যার দাম সোনার থেকেও ২০ গুণ বেশি।

আমরা দা হং পাও, নামে একটি চায়ের কথা বলতে চলেছি যেটি বিশ্বের সবথেকে দামি চা। একটি বেসরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চা পাতার দাম সোনার দামের থেকে ২০ গুণ বেশি। ২০১৬ সালে এই চা পাতার প্রত্যেকটি পত্রের দাম ছিল ৬ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা। চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উউই পাহাড়ে এই চা পাতা পাওয়া যায়। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এই চা পাতা আবিষ্কার করা হলো।

একবার একটি ছাত্র পরীক্ষা দিতে বেইজিং যাচ্ছিল, কিন্তু পথে হঠাৎ করেই স্বাস্থ্য ভীষণ খারাপ হতে শুরু করে দেয় তার। এরপর ছাত্রটি একটি মন্দিরে একজন সন্ন্যাসীর কাছে সাহায্য চেয়েছিল, তখন সেই সন্ন্যাসী উউই পাহাড়ের চা এনে একবাটি চা তৈরি করে ওই ছাত্রটিকে দিয়েছিলেন। সেই চা পান করে অসুস্থ ছাত্রটি কিছুক্ষণের মধ্যেই সুস্থ বোধ করে এবং পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে।

এই চা পাতা সম্পর্কে আরো বলা হয়, যখন সে দেশের সম্রাটের স্বাস্থ্য খারাপ ছিল, তখন সে সময় তাকে এই চা পাতা থেকে চা তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। সম্রাট সুস্থ হয়ে ওই পণ্ডিতকে পুরস্কার হিসেবে একটি লাল কাপড় দিয়েছিলেন, যে লাল কাপড় সে যুগে উচ্চ সম্মান বলে মনে করা হতো। এরপর সম্রাট হুকুম দেন, যে কেউ ওই পথ দিয়ে যাবে সে যেন তার লাল কাপড় চা গাছে ফেলে দেয়। এরপর থেকে ওই চায়ের নামকরণ করা হয়েছে বিগ রেড রোব বা চীনা ভাষায় দা হোং পাও।

প্রসঙ্গত, সাধারণত যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করা হয় এবং চিকিৎসকরাও চা না খাওয়ার পরামর্শ দেন অনেক সময়। কিন্তু বিশ্বের সবথেকে দামি চা পাতা দা হোং পাও স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি খেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। এছাড়াও এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী।