আগ্রার আগে এই শহরে তৈরি হয়েছিল “কালো তাজমহল”, নির্মাতাও করেছেন হুবহু কপি

ভারতের সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম হল আগ্রার তাজমহল। বহু বছর ধরে অসাধারণ সৌন্দর্য নিয়ে সকলকে আকর্ষণ করে চলেছে এই স্মৃতিসৌধ। সারা বিশ্বের মানুষ প্রতিদিন এই অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এই স্থানটি আমাদের ভারতবর্ষের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি তাজমহল। কিন্তু আপনি কি জানেন আমাদের দেশে আরো একটি তাজমহল রয়েছে যাকে বলা হয় ব্ল্যাক তাজমহল। মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে শাহ নওয়াজ খানের সমাধি রয়েছে। চলুন আপনাকে এই তাজমহল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে নেওয়া যাক।

আপনারা সকলেই জানেন আগ্রার সাদা তাজমহল তার মৃত স্ত্রী মুমতাজের স্মরণে তৈরি করেছিলেন। তবে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না, মধ্যপ্রদেশের এই কালো তাজমহলের আদলেই কিন্তু তৈরি হয়েছিল আগ্রা তাজমহল। যদিও কথাটির মধ্যে কতখানি সত্যতা রয়েছে তা জানা যায়নি। তবে এটি লক্ষণীয় যে, মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য কালা তাজমহল সম্পর্কে অনেক কম মানুষই জানেন।

২০১৯ সালে ভারতের প্রত্ন তাত্ত্বিক এবং জরিপ বিভাগ এটির সাজসজ্জা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দিকে নজর দিয়েছেন। এই কালো রঙের তাজমহলটি তৈরি করা হয়েছিল ১৬২২ থেকে ১৬২৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, শাহ নওয়াজ খান ছিলেন আব্দুল রহিম খানখানার জ্যেষ্ঠ পুত্র। আব্দুল রহিমকে সাহসিকতার কারণে মুঘল সেনাবাহিনীর সেনাপতি করা হয়েছিল। আব্দুল ৪৪ বছরে মারা যান এবং বুড়োহানপুরের উতাওয়ালী নদীর তীরে তাকে সমাহিত করা হয়। মনে করা হয় শাহনাজ খানের স্ত্রীর সমাধিও রয়েছে এখানে।

বলে রাখি, কালো পাথরের তৈরি এই তাজমহল সময়ের সাথে সাথে আরো বেশি কালো দেখায়। আপনি যদি সমাধিতে খুব কাছ থেকে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন এটি কত সুন্দর। এই ভবনটি আগ্রা তাজমহলের মত বিখ্যাত হয়ে ওঠেনি কারণ আমরা মুঘল স্থাপত্যর সাথে ভীষণভাবে পরিচিত।

এই সুন্দর স্মৃতি স্তম্ভটি একটি তাজের আকৃতিতে নির্মিত যদিও আকারটি অনেকটাই ছোট। যেহেতু এটি কালো পাথর দিয়ে নির্মিত করা হয় তাই কাঠামোটির নামকরণ করা হয়েছিল কালো তাজ। এটি একটি বিশাল গম্বুজ সাদৃশ্য কাঠামো এবং বাগান দ্বারা পরিবেস্টিত। আপনি যদি এই কালো তাজমহল দেখতে চান তাহলে বুধবার ছাড়া প্রত্যেক দিন সকাল ন’টা থেকে বিকেল চারটের মধ্যে যেকোনো সময় যেতে পারেন।