মেয়ের স্বপ্ন পূরণে পৈতৃক জমি বিক্রি করে দিয়েছিল কৃষক বাবা, আজ সেই মেয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ পাইলট

ইচ্ছা থাকলে সব স্বপ্নই পূরণ হওয়া সম্ভব। যেকোনো স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য চাই একাগ্রতা এবং কঠিন পরিশ্রম। এই দুটি সংমিশ্রণে যে কোনো সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এমন একটি অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন গুজরাটে বসবাসকারী এক কৃষকের মেয়ে। একমাত্র মেয়েকে পাইলট করার জন্য নিজের জমি বিক্রি করে দিয়েছেন ওই কৃষক। আজ ভারতের সবথেকে কনিষ্ঠা পাইলট হয়ে বাবার আত্মত্যাগের ঋণ পরিশোধ করেছেন ওই কৃষক কন্যা।

ওই কৃষক কন্যার নাম মৈত্রী প্যাটেল। গুজরাটের সুরাটে বসবাসকারী কান্তি ভাই প্যাটেলের একমাত্র মেয়ে, যিনি পাইলট হতে চেয়েছিলেন। কান্তি ভাই মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য সব রকম ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন। একমাত্র মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য জমি বিক্রি করে দেন তিনি। বাবার এই আত্মত্যাগ যে বিফলে যায়নি, তা প্রমাণ করে দিয়ে ভারতের অন্যতম কনিষ্ঠা পাইলট হিসাবে সম্মানিত হন ১৯ বছর বয়সী মৈত্রী।

স্বাভাবিকভাবেই মেয়ের এই সাফল্যে ভীষণভাবে খুশি কৃষক দম্পতি। মৈত্রী শৈশব থেকেই হতে চেয়েছিলেন পাইলট। এই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করার পর তিনি পাইলট প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অর্থের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ওই কৃষক নিজের জমি বিক্রি করে দিয়ে নিজের মেয়েকে আমেরিকা পাঠিয়ে দেন। সেখানে মৈত্রী মাত্র ১১ মাসে নিজে ট্রেনিং শেষ করে।

১১ মাস ট্রেনিং শেষে মৈত্রীকে বাণিজ্যিক পাইলটের লাইসেন্স দেওয়া হয়। নিজের দেশে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ফিরে আসে মৈত্রী। বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন। তবে নিজের স্বপ্ন এখানেই সীমাবদ্ধ করতে মোটেই রাজি নন মৈত্রী। আর এগিয়ে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে ক্যাপ্টেন পদ অর্জন করতে চান তিনি। তিনি চান, তাঁর এমন একটি আলাদা পরিচয় থাকুক যাতে মানুষ তাঁকে এক নামে চিনতে পারে।

যদিও মৈত্রী পাটেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে লাইসেন্স পেয়েছেন তাই ভারতের বিমান চালানোর জন্য আলাদা করে একটি লাইসেন্স নিতে হবে তাকে। তবে আজ এই গল্পের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব।