ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দেন কর্মচারী, ইস্ত্রি করা হয় জুতোর ফিতে পর্যন্ত! রাজা চার্লসের রাজকীয় সব অভ্যাস দেখে চোখ উঠবে কপালে

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পরবর্তীকালে শনিবার তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের রাজা হিসেবে নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হয়েছে, যে ভিডিওটি সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গেছে গোটা নেট মাধ্যমে জুড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে যে তৃতীয় চার্লস বসে রয়েছেন একটি টেবিলে,এবং সেই টেবিলে রাখা একটি পেন,যেটি সরানোর জন্য নির্দেশ দিলেন তিনি একজন কর্মীকে।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে এইটুকু কাজও তিনি তার কর্মীদের দিয়েই করান। এরকম একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছে তৃতীয় চার্লসের কাজকর্মকে ঘিরে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন তাহলে কি সিংহাসনে বসার পরেই তাঁর  চরিত্র বদলে গেল?

কিন্তু ব্রিটেনের রাজপরিবারের অন্দরমহলের তরফ থেকে খবর পাওয়া গেছে যে তৃতীয় চার্লস এই ধরণেরই শৌখিন মানুষ, এটা তাঁর সিংহাসনে বসার পরবর্তীকালে চরিত্র নয় বরং তিনি এই রকমেরই মানুষ। কোন কাজে তিনি নিজের হাতে করতে চান না। ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল একটি তথ্যচিত্র, যেখান থেকে জানা যায় এলিজাবেথ এবং যুবরানি ডায়ানার বিশেষ কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন নিযুক্ত ছিলেন বারেল।

বারেল জানিয়েছেন, তৃতীয় চার্লস নিজের দাঁত মাজার ব্রাশেও নিজের হাতে পেস্ট লাগাতেন না তার জন্য ছিল আলাদা লোক। এখানেই যে শেষ তা কিন্তু নয়, ব্রাশে ঠিক কতটা পেস্ট লাগাতে হবে সেটাও বলা ছিল।

জানা গেছে ব্রাশের ঠিক এক ইঞ্চি পেস্ট লাগাতে হত, কম হওয়া যেত না অথবা বেশি হওয়া যেত না। বাড়ির কর্মচারীরা প্রত্যেকদিন সকালে ইস্ত্রি করতে হতো রাতের পাজামা, শুধু পোশাক নয় তার সঙ্গে চার্লসের জুতোর ফিতেও ইস্ত্রি করতে হতো। চার্লস যে বাথটাবে স্নান করতেন সেটাতে ঠিক কতটা পরিমাণ এবং কিরকম জল থাকবে সেটাও ঠিক করা থাকতো।

বোঝা যাচ্ছে যে চার্লস ছিলেন নিয়মানুবর্তী একজন মানুষ। একটি সংবাদমাধ্যমে রাজপরিবারের প্রাক্তন রাঁধুনি জানিয়েছেন, জলখাবারে চার্লসের কাছে থাকে একটি নির্দিষ্ট বাক্স, বাক্সটি তিনি সমস্ত জায়গাতেই নিয়ে যেতেন। ওই বাক্সে থাকে ছয় রকমের মধু এবং পাউরুটি. বাড়ির তৈরি পাউরুটি ছাড়া তিনি অন্য কোন পাউরুটি খান না। চিজ থেকে শুরু করে কুকিজ সমস্ত কিছুই তৈরি করতে হয় নির্দিষ্ট উষ্ণতায়। বাথরুমে তাঁর বিশেষ রংয়ের টিস্যু ছাড়া কাজ চলেনা।