স্বামীর থেকে ডিভোর্স, না ফিল্ম না বিজ্ঞাপন! জানুন কীভাবে বছর গেলে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন কারিশমা কাপুর

চিরকালই তিনি ছিলেন শান্ত শিষ্ট এবং মিষ্টি স্বভাবের। বাকি অভিনেত্রীদের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিলেন তিনি। তার রূপের মোহে মোহিত হয়ে থাকতো বহু পুরুষ। তিনি হলেন কারিশমা কাপুর। কারিশমা কাপুর যে ৯০ দশকের সেরা অভিনেত্রী সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই কারোর। একসময় একের পর এক সুপারহিট হিন্দি সিনেমা তিনি উপহার দিয়েছেন সকলকেই। বলিউডের প্রায় প্রত্যেক প্রথম সারির নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কারিশমা কাপুর।

১৭ বছর বয়স থেকে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। প্রথম থেকেই সিনেমা জগতের প্রতি আলাদা আকৃষ্ট ছিল অভিনেত্রীর কারণ তিনি এমন একটি পরিবার থেকে এসেছিলেন যেখানে প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনোভাবেই বলিউডের সঙ্গে যুক্ত। এক কথায় বলা চলে, বলিউড ইন্ডাস্ট্রি এই পরিবার ছাড়া অচল।

১৯৯১ সালে প্রেম কয়েদি, সিনেমার হাত ধরে যাত্রা শুরু করেন কারিশমা কাপুর। স্টার কিড হওয়া সত্বেও তিনি নিজের পরিশ্রমের দ্বারা নিজের স্থান অর্জন করেছেন। সফল সিনেমার কথা যদি বলা হয় তাহলে সে তালিকা অনেকটাই লম্বা। তবে বলিউডে সাফল্য অর্জন করলেও নিজের জীবনে কিন্তু সেভাবে খুশি হতে পারেননি অভিনেত্রী।

পাঁচ বছর প্রেম করার পর অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে যখন বাগদান পর্ব শেষ হয়ে যায় তখন হঠাৎ করেই বনি কাপুরের আপত্তির জন্য সেই বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করেন কারিশমা কাপুর। বেশ কয়েক বছর ভালোই সংসার করেছিলেন তিনি। কিয়ান রাজ কাপুর এবং আদিরা রাজ কাপুর, দুই সন্তানের মা হয়েছিলেন অভিনেত্রী।

কিন্তু বিয়ের ১৩ বছর পর ২০১৬ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায় কারিশমা কাপুর এবং সঞ্জয় কাপুরের। জানা যায়, দিনের পর দিন সঞ্জয় কাপুর কিভাবে মানসিক অত্যাচার করেছিলেন অভিনেত্রীকে। বর্তমানে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তিনি নিজের দুই সন্তানকে মানুষ করছেন। তবে অনেকেই প্রশ্ন করেন অভিনয় জগত থেকে দীর্ঘদিন দূরে সরে থাকার পরেও কিভাবে তিনি নিজের সন্তানের ভরণ পোষণ করছেন??

না এই ব্যাপারে একদমই বাবার ওপর নির্ভরশীল নন অভিনেত্রী। প্রতিবছর ব্রান্ড ইনডোর্সমেন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করেন অভিনেত্রী নিজেই। তিনি একটি কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারও। অন্যদিকে সঞ্জয় কাপুর প্রতি মাসে সন্তানদের ভরণ পোষণ করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা দেন অভিনেত্রীকে।

অভিনেত্রী প্রায় ৯৩ কোটি টাকার মালিক বর্তমানে। বিলাস বহুল দামি দামি গাড়ি এবং বাড়ির মালিক তিনি
সিনেমা জগত থেকে সরে থাকলেও তিনি প্রায় প্রত্যেক পার্টি অ্যাটেন্ড করেন বলিউডের। এছাড়া সক্রিয় থাকেন সোশ্যাল মিডিয়াতে।