ঋষির মৃত্যুর পরেই যেন পাকিস্তানে ধূলিসাৎ হতে চলেছে কাপুর মেনশন, পরিবারের অনেক পুরনো স্মৃতিতে মোড়া সেই হাভেলি..

গত কয়েকদিন আগেই পরপর দু’দিন বলিউড জগতের দুটি নক্ষত্র কে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। তার মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ঋষি কাপুর।বলিউড জগতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়ার ভিডিও এখনো পর্যন্ত দেখে যাচ্ছে তার ভক্তরা। তার মৃত্যুর পর কাপুর পরিবারের যেন এক ধস নেমেছে বলা চলে। খবর পাওয়া গেছে পাকিস্থানে নাকি ঋষি কাপুরের একটি পুরনো বাড়ি (হাভেলি) ছিল। তবে তার এই পুরনো বাড়িটি তার মৃত্যুর সাথে ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে যাচ্ছে।

খবর এসেছে দিনের পর দিন ধরে এই পুরোনো হাভেলিতে কোন মেনটেনেন্স করা হয়নি। হাভেলির বহু অংশই এখন আর নেই। পাকিস্তানের সরকারের তরফ থেকে প্রথমে ভাবা হয়েছিল ওই হাভেলিকে ভেঙ্গে তারা মিউজিয়াম করবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। নিয়মিত মেরামত করা না থাকলেও সেই প্রকাণ্ড বাড়ি যেনো সযত্নে রেখে দিয়েছে কাপুর পরিবারের পুরোনো স্মৃতি। কাপুর পরিবারের পৃথ্বীরাজ কাপুর এবং রাজ কাপুর এই বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া অনেকেই জানেন না যে কাপুর পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানের পেশাওয়ার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই হাভেলিতে পৃথ্বীরাজ কাপুর এর ছোটবেলার স্মৃতি স্বাক্ষী হয়ে থেকেছে হাভেলির প্রতিটি দেওয়াল।পৃথ্বীরাজ কাপুর এর বাবার নাম হল, দিওয়ান বসেশ্বরনাথ । খবর আছে তিনি নাকি পাকিস্তানের এই পুরোনো হাভেলি ছেড়ে ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে চলে আসেন। পুরো কাপুর পরিবারের তিনিই ছিলেন একমাত্র সদস্য যিনি প্রথমে বলিউডে পা রাখেন। এর পর ধীরে ধীরে কাপুর পরিবার বলিউড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়।

খবর পাওয়া যায় ভারত-পাকিস্তান  ভাগ হওয়ার আগেই অর্থাৎ 1918 থেকে 1922 সালের মধ্যেই এই বিশাল হাভেলি তৈরি করা হয়। এরপর 1947 সালের পরে এই হাভেলি ছেড়ে ভারতে চলে আসে কাপুর পরিবার। তারপর নাকি এক অকশন এর মাধ্যমে এই হাভেলি বিক্রি হয়ে যায়। ঋষি কাপুরের মৃত্যুর পরে এই হাভেলি যেন পুরো মাটির নীচে তলিয়ে গেল। বর্তমানে এই হাভেলি টির আরো অবস্থা খারাপ। এমন কী কেউ দেখলে বলতে পারবে না যে এখানে কাপুর পরিবারের একাধিক স্মৃতির সাক্ষী ছিল প্রতিটি দেওয়াল।

এই বলিষ্ঠ অভিনেতা শেষ ইচ্ছা টুইট করে জানান। টুইটে তিনি জানিয়েছিলেন, ” আমার 65 বছর বয়স হয়েছে। আমি মারা যাওয়ার আগে পাকিস্তানের সেই বাড়িটিতে যেতে চাই। আমি চাই আমার সন্তানরা সেই বাড়িটি একবার হলেও দেখুক।”কিন্তু এনার শেষ ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। অসুস্থ থাকার সময় তিনি যে বহুবার তার পুরনো বাড়িটার কথা মনে করেছেন তা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।

Related Articles

Close