রাজ্যে চাপ বাড়লো বিরোধী দলের! দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের মোক্ষম জবাব কমলেশ্বর -পরমব্রত- অঙ্কুশের

রাজ্যে বিধানসভা ভোট শুরু হয়ে গেছে। এবারের বিধানসভা ভোটের সবথেকে বড় চমক হল বিধানসভা ভোটের আগে টলিপাড়ার বিভিন্ন তারকারা যোগদান করেছেন তৃণমূল এবং বিজেপি শিবিরে। এবার তৃণমূলের বিভিন্ন তারকাদের কটাক্ষ করে ফেসবুক লাইভে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন “শিল্পীদের বলছি আপনারা নাচুন, গান। ওটা আপনাদের শোভা পায়। রাজনীতি করতে আসবেন না। ওটা আমাদের ছেড়ে দিন। না হলে রগড়ে দেব।” এই মন্তব্যের জন্য প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ঐন্দ্রিলা সেনের মতো তারকারা।

দিলীপ ঘোষ ফেসবুক লাইভে এরকম মন্তব্য করার পর থেকেই সেটি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে মিডিয়ার প্রতিটি কোনাতে। অনির্বাণ ভট্টাচার্য্যের রচনা এক গানের ভিডিও বানান ঋদ্ধি সেন ও ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, অরুণ মুখোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, কৌশিক সেন, রাহুল অরুণোদয় এছাড়াও আরও বেশকিছু তারকারা এই ভিডিওতে অভিনয় করেন।

দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের বিরুদ্ধে পরমব্রতর উক্তি হল “মাননীয় ঘোষ মহাশয়ের মন্তব্য পড়ে অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন, অনেক শিল্পী অভিনেতা তো আপনাদের দলেও যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও কি আপনার রগড়ানি প্রযোজ্য? আপনাদের বলি, বুঝতে ভুল হচ্ছে আপনাদের! উনি আসলে বলেছেন, শিল্পীদের যদি রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে হয়, একমাত্র ওঁদের দলের হয়েই বলতে হবে।

তাহলেই আর কোনও সমস্যা, রগড়ানি কিছু নেই।নিদেনপক্ষে অন্য কোনও বিরোধী দলের হয়ে যদি বলেন, সেও ভি আচ্ছা! কারণ সেটা শেষমেশ সিস্টেমের ভেতরে থেকে কথা বলা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে সময়ের জাঁতাকলে কে কখন কাজে লাগে বলা যায় না। কিন্তু পার্টির রং ছাড়া, স্বাধীনভাবে রাজনীতি, সমাজ এসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা যাবে না। ভাবনা চিন্তা যত স্বাধীন, তত সমস্যা! ভাবলেই রাষ্ট্রশক্তির বিপদ যে! মনে পড়ে, হীরক রাজার দেশের কথা? ওফ উদয়ন মাস্টার, তোমার কথা যে আজ বড্ড মনে পড়ে! বাকিটা আমার প্রিয় দেশ এবং রাজ্যবাসীর উপরেই ছাড়লাম।”

পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ফেসবুকে লিখেছেন, “রগড়ে দিলে দিন। তবু, সংস্কৃতি প্রশ্ন তুলবে কোথায় ‘আচ্ছে দিন’?” পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন, “আমরা নাচব, গাইব। আর রগড়ে দিতে এলে এমন রগড়ান রগড়াবো যে মুচলেকা দিয়ে পালাবেন। শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।” প্রতিবাদ জানাতে ভোলেননি অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা তিনি লিখেছেন “ইশ যদি সব জায়গাতেই একটু শিক্ষা / যোগ্যতা দেখে মানুষ নেওয়া হত তাহলে যে কেউ এসে শিল্পীদের রগড়ে দিয়ে যেত না।” অঙ্কুশের কমেন্টে রিপ্লাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা লিখেছেন, “প্রকৃত শিল্পীদের রগড়ে দিয়ে চলে যাওয়া অত সহজ নয়।”