এক সময় রাস্তায় রাস্তায় বিক্রি করেছেন কলম, যেতে হয়েছে জেল পর্যন্ত! বলিউডে এসে এক বছরে ২৫ টি ছবি জনি লিভারের

উনিশ শতকের সেরা কমেডিয়ান বলতে আমরা শুধুমাত্র চিনি জনি লিভারকে। অনবদ্য উপায় তিনি সকলকে হাসিয়ে রাখতে পারতেন। কোনরকম অ্যাডাল্ট কমেডি না করেই তিনি তাঁর অমলিন হাসি দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করতে পারতেন। কমেডি দুনিয়ার জাদুকর ছিলেন জনি লিভার। আজ এই প্রবীণ অভিনেতা সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সকলের সঙ্গে শেয়ার করব। অন্ধ্রপ্রদেশের এক খ্রিস্টান তেলেগু পরিবারে জন্ম হয়েছিল এই অভিনেতার। মুম্বাইয়ের ধারাবি বস্তিতে শৈশব কাটিয়ে ছিলেন তিনি। জনি লিভারের বাবা কাজ করতেন হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের অপারেটরের পোস্টে। দুই ভাই এবং তিন বোনের সংসারে দারিদ্র ছিল নিত্য সঙ্গী।

অভাবের কারণেই ক্লাস সেভেনের পর স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন জনি লিভার। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পেন বিক্রি করতেন, অন্য অভিনেতাদের নকল করে পয়সা রোজগার করতেন তিনি। অনেকেই আমরা জানি না, জনি লিভারের আসল নাম প্রকাশ রাও জানুমালা।বাবা হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের চাকরি করতেন বলে ছেলের পদবী হয়ে যায় লিভার।

জনি লিভার বাবার কোম্পানিতে নিয়মিত স্টেজ শো করতেন। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা তাঁর পারফরম্যান্স দেখে ভীষণ ভাবে আনন্দ পেতেন। জন থেকে নাম পাল্টে হয়ে গেল জনি এবং ইউনিলিভারে পারফর্ম করতেন বলে সহকর্মীরা ভালবেসে নাম রাখলেন জনি লিভার। সেই নাম তাঁকে পরবর্তী সময়ে এনে দেয় যশ ও প্রতিপত্তি।

১৯৮১ সালে stand-up কমেডিয়ান হওয়ার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন জনি লিভার। ৬ বছরের নিরলস পরিশ্রমের পর ডাক পান কল্যাণজী আনন্দ জি গ্রুপ থেকে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পারফর্ম করতে শুরু করেন জনি লিভার। তারপর কার্যত তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাকিটা ইতিহাস।

তুম পার হাম কুরবান, নামক হিন্দি সিনেমায় প্রথম অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি। ১৯৮২ সালে দর্দ কা রিস্তা, সিনেমাতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপর প্রায় ৩৫০ একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, আজও প্রতিদিন সকালে ক্রসওয়ার্ড পাজেল দিয়ে দিন শুরু করেন তিনি। হয়তো সেই কারণে ভাষার প্রতি এত দক্ষতা রয়েছে তাঁর। চারিত্রিক দিক থেকে অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের মানুষ জনি লিভার। জনি লিভারের পর বহু স্ট্যান্ডার্ড কমেডিয়ান এসেছেন আমাদের ভারতবর্ষে কিন্তু আজও সেরা সেরা সেই জনি লিভার।