যথেষ্ট ভাবনা চিন্তা করেই যোগদান তৃণমূলে, জানালেন বাবুল

বিজেপি দলের কাছে এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। সমস্ত জল্পনাকে হঠাৎ করেই সত্যি করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু হঠাৎ করে কেন তিনি তৃণমূলে যোগদান করলেন এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর জল্পনা চলছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার পিছনের সমস্ত কারণ বিস্তারিত জানালেন।

*এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “আমি বরাবরই বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। বিজেপিতে যোগদানের পিছনে এই উদ্দেশ্যই ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আমাকে এই সুযোগ এনে দিয়েছে । আগে ভেবেছিলাম রাজনীতিতে আর থাকব না। কিন্তু হঠাৎ করে এই সুযোগ পাওয়ার তা আর হাতছাড়া করিনি।

* তিনি আরো বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই চিন্তা-ভাবনা করছিলাম। মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করার প্রসঙ্গে ডেরেকের সাথে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। গত চার দিনের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত বদল করেছি। ”

Advertisements

* বিজেপিতে যোগ দিলেও কোনো তিনি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট ছিলেন না । ২০১৯ সালে জয়ের পরও পূর্ণমন্ত্রিত্ব না পাবার জন্য তাঁর মনে ক্ষোভ ছিল অনেকদিন ধরেই। তিনি বলেন, “একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর যে কি ক্ষমতা হয়তো সকলেই জানেন। ২০০৯ সালের পর পূর্ণমন্ত্রীত্ব না পাবার পর আমার পরিবার এবং বন্ধুরা সকলে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন । এ বিষয়ে আর নতুন করে কিছু বলতে চাইনা। “

Advertisements

* তিনি আরো বলেন “কেউ যেন না ভাবেন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধুমাত্র মানুষের জন্য কাজ করবো বলেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলাম। ”

* তিনি আরো বলেন, “গত সাত বছর ধরে শুধুমাত্র মানুষের জন্যই কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে সুযোগ কখনো পাইনি ।কাজ করার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছিল এবং সেই রাস্তা কেন বন্ধ হয়েছিল তা আমি জানিনা। ”

* বাবুল সুপ্রিয় নিজেও বলেন রাজনীতি ছাড়া তাঁর ভুল হয়েছিল। তাঁর কথায় “সকলেই বলেছিলেন রাজনীতি থেকে সরে আসা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল । মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে এই সুযোগ এনে দিয়েছেন। মন দিয়ে এখন মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। ”

* তিনি ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাংসদ পদ থেকে তিনি সরে আসবেন ।সাংসদ পদ থেকে সরে আসার পিছনে কারন বলতে তিনি বলেন “যেহেতু আমি তৃণমূলে যোগ দিয়েছি তাই এবার আসানসোলের সংসদ পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব । কারণ বিজেপির টিকিটে আমি জিতেছিলাম।

* সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় ভবানীপুরের উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূলের হয়ে তিনি কবে থেকে প্রচার করবেন? উত্তরে তিনি বলেন “আমার মনে হয় না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমার প্রচারের প্রয়োজন আছে। সোমবার দিদির সাথে আমি দেখা করবো। ফোনে এই ব্যাপারে সমস্ত কথা আমাদের হয়ে গেছে। ”

* রাজ্যসভায় অর্পিতা ঘোষের ছেড়ে যাওয়া পদে কি তিনি বসবেন!?এই প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে এখনই আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না তবে দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমি মেনে নেব।

* বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল যোগদানের পিছনে তাঁকে নিয়ে অনেক জল্পনা শুরু হয়েছে । অনেকে তাঁকে সুযোগ সন্ধানী বলেও কটাক্ষ করেছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতে, তিনি সাফ জানিয়ে দেন “আমি জানি বর্তমানে আমাকে নিয়ে অনেক ট্রল করা হবে । তবে আমি এসবে মন দিতে চাই না। কারণ আমি জানি আমার মনে কি আছে। “