মোবাইলের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ কমাতে সাহায্য করবে গোবর দিয়ে তৈরি চিপ, রিপোর্ট প্রকাশ কেন্দ্রের

গোবরের তৈরি বৈদ্যুতিন ‘চিপ’ নিয়ে মাস কয়েক আগেই প্রবল উৎসাহ দেখিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারা দাবি করেছিল,  মোবাইল হ্যান্ডসেটের বিকিরণ কমাবে এই চিপ  এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেবে৷ এবার চিপটির  ‘বিজ্ঞানসম্মত’ প্রমাণ নিয়ে হাজির হল ‘রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ’।

আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে , গোবর দিয়ে তৈরি এই বিশেষ চিপ দিয়ে ৬০ শতাংশ রেডিয়েশন কমানো সম্ভব। আয়োগের চেয়ারম্যান বল্লভভাই কাঠিরিয়া বলেন তাঁর তত্ত্বাবধানে চিপগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে গুজরাতের সৌরাষ্ট্র ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা বিভাগে।
রিপোর্ট বলছে, “বিভিন্ন ঘনত্বের চিপের নমুনা পরীক্ষা করে হয়েছে। যে যন্ত্রের দ্বারা এই পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটি হল নিউক্লিওনিক্স। জিএম কাউন্টিং সিস্টেমের দ্বারা চালিত ক্যাসিয়াম পরীক্ষায় দেখা গেছে, মোবাইল থেকে বিকিরত রেডিয়েশনের মান অনেকটাই কম।”

পরীক্ষা এখনও চলছে৷ জানা যাচ্ছে,  গোবরের যে চিপটি যত পাতলা ও সূক্ষ্ম, সেটি তত উপযোগী রেডিওঅ্যাকটিভ বিকিরণ কমাতে।  অক্টোবর মাসে বল্লভভাই কাঠিরিয়া যখন প্রথম আয়োগের এই চিপের  কথা বলেন তখন বহু প্রশ্ন উঠেছিল। দেশের প্রায় ৬০০ জন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষক, অধ্যাপক প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীসের ভিত্তিতে এই দাবি? এর পিছনে  কোনও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা গবেষণা রয়েছে? এমন সব প্রশ্ন উঠেছিল৷ রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগের চেয়ারম্যান কুসংস্কার ছড়াচ্ছেন এবং  সংবিধান বিরোধী কাজ করছেন বলেও সরব হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷

বল্লভভাই কাঠিরিয়া  বলেন, “আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ভারতীয় গরুদের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা আছে। লাগাতার গবেষণা করে গেলে তার ইতিবাচক ফল মিলবে। ভাল প্রভাব পড়বে মানবসভ্যতায়। ইতিমধ্যেই আমি এটুকু নিশ্চিত হয়েছি, গো-বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারি নানা ক্ষতি থেকে।”

নিজেকে কীভাবে “স্লিম অ্যান্ড ট্রিম” করে তুললেন নীতা আম্বানি! করলেন সেই গোপন রহস্যের খোলাসা

আয়োগের তরফে জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, সব স্কুলের প্রধানরা যেন পড়ুয়াদের গো-বিজ্ঞানের বিষয়ে উতসাহ দেন। কামধেনু গো-বিজ্ঞানের তরফে সারা দেশে একটি অনলাইন পরীক্ষা  হতে চলেছে। এ পরীক্ষায় সকলে অংশগ্রহণ করতে পারবেন৷ জানা গেছে, গরু নিয়ে ভারতের সংস্কৃতি, গরু থেকে উতপাদিত নানা দ্রব্য, গো সংরক্ষণ, দেশীয় অর্থনীতিতে গরুর প্রভাব, গরুর নানা বিজ্ঞানসম্মত উপকার, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা– এই সব  পরীক্ষার বিষয়। সকলকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে এবং সফল পরীক্ষার্থীরা পুরস্কারও পাবেন।