মূলত এই ৫ টি কারণ-এর জন্যই চাপে পড়ে মোদি সরকার প্রত্যাহার করল কৃষি আইন, বিস্তারিত জানতে

গত এক বছর ধরে কৃষি আইন নিয়ে ভারতের কৃষকদের মধ্যে নানান রকম টানাপড়েনের ঝড় চলে গেছে । এক বছর ধরে চলছে নানা বিদ্রোহ এবং বিক্ষোভ । অবশেষে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী কৃষি আইন প্রত্যাহার করেন। তবে আইন লাগু করে এভাবে প্রত্যাহার করা ভারতের ইতিহাসে এটা খুবই বিরল ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর এই আইন প্রত্যাহার করার ঘটনা বিরল হলেও বেনজির নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী এরকম হঠাৎ করে এরকম আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা ফলে বিভিন্ন মহলে জল্পনা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক মহলেই বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন উঠছে, গত এক বছর ধরে আন্দোলন চালানো কৃষকদের উদ্দেশ্যে হঠাৎ করেই কেন প্রধানমন্ত্রী এরকম সিদ্ধান্ত নিলেন।

এই আইন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মূলত পাঁচটি প্রত্যক্ষ কারণ আছে বলে মনে করছেন–

১) এই আইন লাগু করার পর থেকেই কেন্দ্র সরকার থেকে বরাবরই দাবি করে আসা হয়েছিল যে দেশের ৯০ শতাংশ কৃষকদের উন্নতি সাধনের জন্য এই আইন আনা হয়েছে । তবে শুক্রবার সকালে এই আইন তুলে নেবার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষকদের আর্থিক পরিস্থিতি উন্নতি সাধনের জন্য এই আইন আনা হয়েছিল। ছোট কৃষকরা তাদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য এই আইন তাদের যাতে কাজে লাগে সে জন্য আনা হয়েছিল। কিন্তু প্রদীপের আলোর মতো আমরা দেশের বেশিরভাগ কৃষকদের বোঝাতে পারিনি এই আইনের ভালো দিক গুলি হয়তো আমারই চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল। ” মূলত প্রধানমন্ত্রী ভাষায় ছোট কৃষকের উন্নতি সাধনের জন্য এই আইন আনা হয়েছিল ।সেই সাথে তিনি এই আইন যে সমস্ত কৃষকেরা সমর্থন করেছিলেন তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

২) বিরোধীদলে থেকেই বারবারই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল এই আইন মূলত কর্পোরেট সংস্থাগুলির স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কিন্তু শুক্রবার সকালে এই আইন প্রত্যাহার করে প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি সততার সঙ্গে দেশের কৃষকদের উন্নতি সাধন করতে চেয়েছিলেন।

৩) গত সাত বছরে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি যে অভিযোগটি উঠে এসেছে সেটি হল একনায়কত্বের অভিযোগ। মোদী সরকারের সাথে তুলনা করা হয়েছে ফ্যাসিবাদের। এই আইন বাতিলের মাধ্যমে তিনি এই সকল অভিযোগে ভ্রান্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।

৪) প্রধানমন্ত্রীর এই আইন প্রত্যাহারের পিছনে বিশেষজ্ঞরা আরও একটি কারণ কি সম্ভাব্য মনে করছেন। সেটি হল এই বছর ৭৫ বছরের বর্ষ উদযাপন কে কেন্দ্র করে একটি ভালোমতো অনুষ্ঠান হয়েছিল রাজধানীতে । কিন্তু সেই সময়ে দেশের হাজার হাজার কৃষকেরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন যা প্রধানমন্ত্রী ভাবমূর্তি নষ্ট করছিল। পরবর্তীকালে কৃষকদের সঙ্গে হাজার আলোচনা করেও তাদের আন্দোলন থেকে বিমুখ করা যায়নি। কোনো সুরাহা না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট না করার জন্য এই আইন প্রত্যাহার করেন।

৫) এছাড়া বিশেষজ্ঞরা এই আইন প্রত্যাহারের পিছনে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কারণ হিসেবে দেখছেন। পাঞ্জাবের উত্তরপ্রদেশের কৃষকেরা যেভাবে আন্দোলন শুরু করেছে তাতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বিপুল পরিমাণে ধাক্কা খেতে পারেন। এমনিতেই পাঞ্জাবে বিজেপি সরকার দুর্বল ।তার ওপর যে সমস্ত কৃষক আন্দোলন করছিলেন তাদের বেশিরভাগই পাঞ্জাব এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের অঞ্চলের। সুতরাং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথা রেখে হয়তো প্রধানমন্ত্রী এই আইন প্রত্যাহার করেছেন।