ইউরোপীয় সংস্থা ১২ বছর পর খুঁজে পেয়েছিল তাদের ল্যান্ডারটি, যেখানে ভারতের বিজ্ঞানীরা মাত্র 35 ঘণ্টায় খুঁজে বের করলো ল্যান্ডার

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির একটি যান যার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তবে আজ ১২ বছর পর তার সম্বন্ধে তথ্য জানতে পাওয়া গেল। ESA এর সেই যান টিকে দেখতে পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করা গেল না কিন্তু বিশ্বাস যুগিয়ে রাখতে হবে , বিশ্বাস হারালে চলবে না। ভারতের ইসরো বৈজ্ঞানিকেরা তো বিক্রম ল্যান্ডর কে মাত্র ৩৫ ঘন্টার মধ্যেই খুঁজে বার করে নিয়েছে। কিন্তু এবার তারা এই চেষ্টা করছে যে কোনোভাবেই হোক চন্দ্রযান ২ এর ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA) মঙ্গল গ্রহের জন্য ২ ই জুন ২০০৩ এ একটি যান কে ছেড়েছিল এবং তার নাম ছিল বীগল- ২ । পুরো মিশনটির নাম ছিল মার্স এক্সপ্রেস মিশন। জুন মাসে এটিকে লঞ্চ করার পর ছয় মাস পর ১৯ ডিসেম্বর ২০০৩ এ এটি মঙ্গল গ্রহে পৌঁছেছিল। এই বাহনটি সেখানে পৌঁছার পরই সেদিনই ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। ক্রমাগত আড়াই মাস ধরে বিগল – ২ কে খোঁজার পুরোপুরি চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০০৪ এ এই মিশনটিকে অসফল বলে ঘোষণা করা হয়।

ESA বিগল – ২ মিশন টিকে মঙ্গল গ্রহে এই কারণে পাঠিয়েছিল মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা সেটি খোঁজার জন্য এই মিশনে পাঠানো হয়েছিল। বীগল এর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর ESA মার্স এক্সপ্রেশন মিশন এর আর্ব টর দিয়ে অনেকবার সম্পর্ক করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হলো না এবং আর্বিটোর এর সাহায্যে এমন কোনো ছবিও পাওয়া গেল না যা থেকে বোঝা যাবে যে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা।অন্যদিকে বিগত ১২ বছর পর যখন আমেরিকার অন্তরীক্ষ এজেন্সি ( NASA) এর বাহন মার্স রেকন্সেস আর্বিটর মঙ্গল গ্রহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য নিজ কক্ষপথে ঘুরছিল তখন সে ১৬ই জানুয়ারি ২০১৫ তে বিগল ২ এর ছবি তুললো। তারা জানতে পারল যে বিগল ২ এর ল্যান্ডার মারা গেছে এবং বিগল ২ তার নির্ধারিত জায়গা থেকে পাঁচ কিমি দূরে পড়েছিল। মঙ্গল গ্রহের এই এলাকাটি কে ইসিডিস প্লেনেশিয়া বলা হয়।

Related Articles

Close