মুখ্যমন্ত্রীকে চোখে চোখ রেখে জবাব IPS অফিসারের, “ম্যাডাম খাকি পরে দাগ নেব না”

এবারের বিধানসভা ভোট আটটি দফায় হবে। প্রথম দফা হয়েছে ২৭ মার্চ। দ্বিতীয় দফা হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১ এপ্রিল। আজ দ্বিতীয় দফার ভোটে সারাদিনই একাধিক কেন্দ্র থেকে উঠে এসেছে হিংসাত্মক ঘটনার খবর। আজ বয়ালের ৭ নম্বর বুথে তৃণমূল এবং বিজিপির মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। তারপর নন্দীগ্রামের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই মুখ্যমন্ত্রীর চোখে চোখ রেখে জবাব দেন এই IPS Officer।

 

এবারে বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে নির্বাচনের তিন দিন আগে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থেকে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আজ দুপুরের দিকে ভাড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রগুলি পর্যবেক্ষণ করতে যান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নন্দীগ্রামের বয়ালে হিংসাত্মক ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে দায়ী করেন।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই হিন্দিভাষীদের দিয়ে অশান্তি লাগানোর চেষ্টা চলছে।’ এ পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন যে ‘নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) সকাল থেকে ৬৩টি অভিযোগ করা হয়েছে, একটিরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’ তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে বলেছিলেন ‘দয়া করে নিরপেক্ষ হন’।

 

দুপুর ১টা ৪০ নাগাদ মমতা ব্যানার্জি যখন বয়ালের সাত নম্বর বুথে ঢোকেন তখন ওই বুথের বাইরের পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তৃণমূলের সমর্থক এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়ন না থাকায় মমতা ব্যানার্জি সেখানেই বহুক্ষণ আটকে পড়েন। মমতা ব্যানার্জি ওই বুথে ঢোকার প্রায় দেড় ঘন্টা পরে নন্দীগ্রামের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠি ওই বুথে আসেন। তখন মুখ্যমন্ত্রী ওই আইপিএস অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এর উত্তরে ওই অফিসারটি বলেন ‘ম্যাডাম এই খাকি পরে কোনও দাগ নেব না।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ‘দাগ তো অনেকেই নিয়ে নিয়েছে’। সম্মানের সহিত নগেন্দ্র উত্তর দেন, ‘আমি নেব না’।

নন্দীগ্রামের একাধিক স্থানে তৃণমূলের পোলিং এজেন্টকে বিজেপিরা ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই আইপিএস অফিসার মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, ‘ম্যাডাম আমি ওনার বাড়িতে গিয়েছিলাম, ওনাকে নিয়ে আসতে।’ এরপর বয়ালের রণক্ষেত্র পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওই অফিসার কে বলেন ‘তোমাকেও অনেকবার বলা হয়েছে।’ এর উত্তরে নগেন্দ্র ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, ‘আমি সাকালে ব্যক্তিগত ভাবে দেখে গিয়েছি, তেমন কিছু ছিল না।’ এরপর ওই অফিসারকে দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ‘কিচ্ছু লাভ নেই। ওসব তোমরা শিখিয়ে দাও।’

এইরকম দায়ী সূচক কথাবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপাঠি উর্দির কলার ছুঁয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম এই খাকি পরে এই দাগ নেই না।’ সবশেষে ওই আইপিএস অফিসারটি মুখ্যমন্ত্রীকে শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই বুথ থেকে চলে যেতে বলেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর মুখ্যমন্ত্রী ওই বুথ থেকে বেরিয়ে নন্দীগ্রামের পার্টি অফিসে গিয়ে বসেন।