t-20 বিশ্বকাপে রোহিত-কোহলিদের সামনেই অগ্নিপরীক্ষা বনগাঁর দিনমজুরের ছেলের

অক্টোবর এ অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্কোরার এর ভূমিকায় দেখা যাবে বনগাঁর তনয় প্রান্তিকে। রোহিত শর্মা- বিরাট কোহলি দের সামনে এবার বনগাঁর তনয়। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাবে তাঁকে। বনগাঁর তিন নম্বর স্টেডিয়াম গেট এলাকার বাসিন্দা তনয় পান্তি । সাধারণ এক দিনমজুরের ঘরে তাঁর। জন্ম দুই ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে তনয় মেজো ছেলে। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র সাথে লড়ে বড় হয়েছেন তনয়। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও দিনমজুর বাবার পক্ষে সম্ভব হয়নি তা পূরণ করার।

কিন্তু এবার নিজের স্বপ্ন পূরণ নিজ হাতেই তুলে নিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে। ৩২ বছর বয়সী এই যুবক ব্যাট কিংবা বল হাতে নয় ক্রিকেট মাঠের রান এবং উইকেট সংখ্যা জানা যাবে তনয়ের একটি ক্লিকেই। তনয় পান্তি আসলে একজন ইলেকট্রিক স্কোরারবোর্ডের স্কোরার । টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোর হিসাব রাখার জন্য তাঁকে পাড়ি দিতে হবে মরুদেশ । যদিও এর আগেও তনয় আইপিএলেও স্কোরারের ভূমিকা পালন করেছিলন।

সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই দুবাই পাড়ি দিচ্ছেন তনয়। তবে এবার প্রথম স্কোরার হিসেবে তাঁকে টি-টোয়েন্টি মঞ্চে দেখা যাবে।ছোটবেলা থেকেই তনয়ের স্বপ্ন ছিল একজন ক্রিকেটার হওয়ার । কিন্তু সাধারণ দিনমজুর পরিবারে জন্ম হওয়ায় আর্থিক দিক থেকে কখনোই সচ্ছল ছিলেন না তাঁরা ।সুতরাং সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি । কিন্তু ক্রিকেট মাঠ তাঁর পিছু ছাড়েনি । মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কোরিং এর কাজ শুরু করেন তিনি। বনগাঁর মাঠেই শুরু হয়েছিল তাঁর হাতেখড়ি।

এরপর মহুকুমা লেভেলে বিভিন্ন ক্রিকেট খেলায় স্কোরিং করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যথেষ্ট নামটা করেছিলেন তনয়। এরপর আসে গল্পের নয়া মোড়। হঠাৎই সিএবি স্কোরার গৌতম রায়ের নজরে আসে তনয়। এই গৌতম রায়ের হাত ধরে সিএবি তে প্রশিক্ষণ নেন তিনি এবং কলকাতা পাড়ি দেন । পরবর্তী পরীক্ষা তে ভালোই ফল করেন তনয় । ক্রিকেটার না হলেও ক্রিকেট মাঠের সাথে পাকাপাকি একটা সম্পর্ক হয়ে যায় তনয়ের। স্কোরার হিসাবে বেশ নাম ডাক হয়ে যায় তারঁ।

তনয়ের মা রেবা দেবীর কথায় “আর্থিক থেকে ছেলেকে কখনোই সাহায্য করতে পারিনি। আজ ছেলে নিজের যোগ্যতায় নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে। ক্রিকেটার না হলেও এত বড় এক টুর্নামেন্ট ম্যাচে স্কোরিং করবে শুনে আমরা খুবই গর্বিত। পরিবারের সবাই আমরা ওর সাথে আছি। “সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তনয় বলেন “পরিবারের সকল সদস্যদের সহযোগিতা না থাকলে আজ আমি এই জায়গায় আসতাম না। ছোট থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। আর্থিক স্বচ্ছলতা না য়থাকার জন্য ক্রিকেটার হতে পারিনি।

কিন্তু এই দুঃখ ভুলে থাকার জন্যই স্কোয়ার হতে চেয়েছিলাম। আজ আমার সেই স্বপ্ন অনেকটাই পূরণ হচ্ছে। ” ১৭ ই অক্টোবর থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে শেষ হবে ১৫ই নভেম্বর । এখানে ইলেকট্রনিক্স স্কোরবোর্ডে স্কোরিং এ দায়িত্ব থাকবে তনয়ের হাতে। সিএবি এবং আইপিএলে স্কোরিং এর কাজ শুরু করেছিলেন তনয় । এইবার করছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেপ্টেম্বরের প্রথমেই তিনি পাড়ি দিচ্ছেন দুবাইয়ে। শুরু হয়ে গেছে তাঁর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কোরিং এ সুযোগ পেয়ে খুবই খুশি তনয় । এর আগে পেশার খাতিরে অনেক তারকা ক্রিকেটারের সাথে তাঁর দেখা হয়েছে। কাজের চাপে সেভাবে ছবি তোলা বা কথা বলার সুযোগ হয়নি । কাজের প্রতি এতটাই একনিষ্ঠ তিনি। এর আগে কাজের জন্য সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন। তবে আনন্দের সাথে সাথে মনে কালো মেঘ জমা হচ্ছে তনয়ের। তার কারণ স্কোরিং করে সারা বছরে এক লাখ টাকার বেশি রোজগার হয় না।যেহেতু কোভিড এর জন্য সবকিছু ক্যানসেল হয়ে যাচ্ছে তাই ছয়জনের পেট চালাতে তিনি এখন হিমশিম খাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে তনয় ভারতীয় কন্ট্রোল স্কোরিং এর পরীক্ষা দিতে চান । টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট শেষ হওয়ার পর বিসিসিআইয়ের স্কোরার হবার স্বপ্ন তনয়ের । বিসিসিআইয়ের স্কোরার হলে একদিকে যেমন রোজকার বাড়বে অন্যদিকে স্থায়ী চাকরি সম্ভাবনাও রয়েছে । দরিদ্র পরিবারের ছেলে তনয়ের এখন পাখির চোখ সেই দিকেই।