দেশনতুন খবরবিশেষ

রাফালের তুলনায় চীনের J-20, পাকিস্তানের – JF-17, F-16 যুদ্ধ বিমান কিছুই না: ভারতীয় গণমাধ্যম

গত বুধবার ভারতের মাটিতে পা দিয়েছে রাফাল যুদ্ধবিমান। আর এরপর ভারতের সামরিক শক্তি চীনের থেকে অনেকাংশে বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। ভারতের সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রুপের দ্বারা নির্মিত চতুর্থ প্রজন্মের ‘মাল্টিরোল কমব্যট এয়ারক্রাফট’ জেএফ-17 থান্ডার এমনকি আবার পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ এয়ার সুপেরিওরিটি ফাইটার’ জে-20 অনেক বেশি শক্তিশালী রাফেল।

তবে চীনের এই সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান জে-20 এখনো পর্যন্ত কোন দেশকে বিক্রি করেনি। তবে এর আগে জেএফ-17 যুদ্ধবিমান পাকিস্তানকে দিয়েছে চীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের রাফেলের তুলনায়
জি-20 অনেক পিছিয়ে। এছাড়াও রাফেল এবং জেএফ-17 দুটির মধ্যে রাফেলের শক্তি বেশি। এই দুটি যুদ্ধবিমান এই 1 আসন বা  2 আসন বিশিষ্ট হতে পারে। তবে ভারতের সাথে ফ্রান্সের রাফেল নিজের যুক্তি রয়েছে তাতে 28 টি রাফেল 1 আসন বিশিষ্ট এবং 8 টি রাফেল 2 আসন বিশিষ্ট হতে পারে। তবে জে-20 যুদ্ধবিমান শুধুমাত্র এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট।

এক অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে,”জেএফ-17 এর ইঞ্জিন রুশ সুখোই-30 এর চেয়ে খুব একটা বেশি উন্নত নয়। আর ওজনের দিক থেকে বিচার করলে সব থেকে ভারী জে-20 যুদ্ধবিমান। খালি অবস্থায় এর ওজন 19,000 কিলোগ্রাম। জ্বালানি এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ‘টেক অফ ওয়েট’ 37 হাজার কিলোগ্রামের একটু বেশি। অপরদিকে আবার রাফেল এর বিভিন্ন মডেলের ওজন কম বেশি করে 10 হাজার কিলোগ্রাম। এবং টেক অফ ওয়েট প্রায় 28,500 কিলোগ্রাম। এবং জেএফ-17 এদের তুলনায় অনেক হালকা। এর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টেক অফ ওয়েট 12,000 কিলোগ্রাম।

দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এগিয়ে জে-20। এর দৈর্ঘ্য 20.5 মিটার। অপরদিকে রাফাল যুদ্ধবিমান এর দৈর্ঘ্য 15.3 মিটার। রাফাল যুদ্ধবিমান এর ডানার দৈর্ঘ্য হলো 10. 9 মিটার। আর জে-20 যুদ্ধবিমানের দৈর্ঘ্য 13 মিটার।
দৈর্ঘ্যের দিক থেকে জে-20 বিমান ছোট হলেও গতির দিক থেকে এই বিমান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এই বিমিন ঘন্টায় 2.0 ম্যাক অর্থাৎ 2,400 কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে এই আধুনিক যুদ্ধবিমানটি। এর তুলনায় রাফাল এর গতি একটু কম। এই যুদ্ধ বিমান টি ঘন্টায় 2222.6 কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। আর জেএফ-17 যুদ্ধবিমানের গতি ঘন্টায় 1975.68 কিলোমিটার।

ডগফাইটের সময় অর্থাৎ আকাশে যখন মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় তখন রাফাল যুদ্ধবিমান 50 হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে। আর জেএফ-17 যুদ্ধবিমান 54 হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে। এবং জে-20 যুদ্ধবিমান 65 হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে। প্রতিপক্ষের এই যুদ্ধবিমান গুলো থেকে অস্ত্রসম্ভারে এগিয়ে রয়েছে রাফাল। এটি দৃষ্টিশক্তির বাইরে শত্রুপক্ষকে আঘাত হানতে সক্ষম ‘মাইকো’ এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দিক থেকে একেবারে সক্ষম। শব্দের থেকে 4 হাজার গুণ দ্রুতগামী অর্থাৎ 100 কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে।

সম্প্রতি চীনের জে-20 যুদ্ধবিমান টিতে 300 কিলোমিটার পাল্লা নতুন এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পিএল-15 লাগিয়েছে। রাফাল এবং জে-20 এই দুটি যুদ্ধবিমানে আধুনিক ইনফ্রারেড অনুসন্ধান এবং ট্রাকিং সিস্টেম আর ক্রস সেকশন ব্রাদার রাডারে শত্রুদের বিমান চিহ্নিত করতে বিশেষভাবে সক্ষম। অপরদিকে জেএফ-17 যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি কিছুটা পুরনো। এই যুদ্ধবিমানে হেলমেট মাউন্টেড ডিসপ্লে পর্যন্ত নেই।পাকিস্তানের কাছে এই যুদ্ধবিমান রয়েছে এখন।

Related Articles

Back to top button