বিমানবন্দরের মতো এসি,লিফট সহ একাধিক সুবিধা মিলবে ভারতের প্রথম রেল টার্মিনাল’-এ

বেঙ্গালুরু শহরের বুকে ভারতের প্রথম সেন্ট্রালাইজড এসি রেলওয়ে টার্মিনাল পরিষেবা চালু হতে চলেছে। গঠন এবং পরিষেবা দিক থেকে যেকোন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পেছনে ফেলে দিতে পারে এই টার্মিনালটি। বৈয়াপ্পানাহাল্লির এই টার্মিনালটি সেজে উঠেছে একেবারে আধুনিক বিমানবন্দরের সাজে। স্যার মোক্ষগুন্দম শ্রীনিবাস শাস্ত্রী বিশ্বেশ্বরায়ার নামে এই রেলওয়ে টার্মিনালের নামকরণ করা হয়েছে ‘স্যর এম বিশ্বশ্বরায়া টার্মিনাল’। মাইসোরের দেওয়ান ছিলেন তিনি।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বেঙ্গালুরু উন্নয়নমূলক কাজে এই মানুষটির অপরিসীম অবদান রয়েছে। ১৯৯৫ সালে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয় শ্রীনিবাস শাস্ত্রীকে। টার্মিনালের ভিতর তৈরি করা হয়েছে প্রতীক্ষালয়, ভিআইপি লাউঞ্জ এবং ফুড কোড। ছাদের ওপর রাখা হয়েছে সোলার প্যানেল। তৈরি করা হয়েছে চলমান সিঁড়ি, লিফট এবং ফুটওভার ব্রিজ। চলাচলের জন্য সমান্তরালভাবে দুটি ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করা হয়েছে। দেওয়ালে রয়েছে ব্যাঙ্গালুরুর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্রের ছবি।

প্রতিটি দরজায় অটোমেটিক লক সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে এবং ভেতরে চারিদিকে রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড। এই টার্মিনালে প্রবেশ করার সময় দেখতে পাবেন স্যার বিশ্বেস্বরায়ার একটি মূর্তি। ডান দিকে একটি এলইডি আলো দিয়ে লেখা রয়েছে আই লাভ বেঙ্গালুরু। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই টার্মিনাল তৈরি হবার কাজ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তার অনেক আগেই গত বছর মার্চে টার্মিনালের কাজ শেষ হয়ে গেছে।

এটি তৈরি করার জন্য খরচ করতে হয়েছে ৩১৪ টাকা। ব্যাঙ্গালোর সিটি এবং যশোবন্ত পুর রেলওয়ে টার্মিনালের পর এটি তৃতীয় প্রধান রেলওয়ে। ৪২০০ বর্গমিটার ক্ষেত্রে টার্মিনালে মোট সাতটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।৬০০ মিটার ও ১৫ মিটার চওড়া এই প্লাটফর্মটি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এই টার্মিনালে মোট ৫০ টি ট্রেন চলবে। টার্মিনালের সামনে গাড়ি পার্ক করার একটি বিশাল জায়গা রয়েছে। পার্কিং লটে ২৫০টি গাড়ি, ২০টি ক্যাব ট্যাক্সি, ৯০০টি বাইক, ৫০টি অটো-রিকশা এবং ৫টি বাস দাঁড়াতে পারে। যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হচ্ছে এবং উন্নত করা হচ্ছে যাতে যাত্রীরা খুব সহজে টার্মিনালে পৌঁছে যেতে পারেন।