দীর্ঘদিনের প্রেম থেকে বিয়ে, সৌরভ ডোনার প্রেম কাহিনী হার মানাবে রূপকথার গল্পকেও

সম্প্রতি বড় ধরনের হার্টের সমস্যা থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মহারাজ। তাঁর হার্টে বসেছে তিনটি স্টেন। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ আছেন। এদিকে সৌরভ আর ডোনার বিয়ের ২৪ টা বছর কেটে গেল। ১৯৯৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল সৌরভ এবং ডোনার বিয়ের দিন। সৌরভ এবং ডোনার প্রেমকাহিনী হার মানাবে যেকোনো সিনেমার গল্পকেও।

 

সৌরভ ডোনার প্রেম কাহিনী মানে হল সাদাকালো যুগে এক রঙিন ছবি। ছোটবেলা থেকে সৌরভ এবং ডোনা একে অপরের খেলার সাথী ছিলেন। একসময় সৌরভ ব্যাডমিন্টন খেলতো আর ডোনা তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতো। সৌরভ যতক্ষণ থাকতো সেই জায়গাটা ছেড়ে কোথাও যেতো না ডোনা। ডোনা কে দেখে হাব ভাব বদলে যায় গাঙ্গুলী বাড়ির এই সুদর্শন যুবকটির। জামার কলারটাকে কিছুটা তুলে অকারণেই এসে যেত সে।

Sourav Ganguly

এই ভাবেই চলতে থাকে তাদের প্রেমকাহিনী। তাদের দুজনের মধ্যে প্রেম চললেও ভয় ছিল কারণ ডোনার বাবা পছন্দ করতেন না গাঙ্গুলী বাড়ির লোকেদের। একসময় সৌরভ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে গিয়ে তাঁর বাবা চন্ডীদাস গাঙ্গুলীকে সৌরভ এবং ডোনার বিষয়ে পুরো ব্যাপারটা খুলে বলেন। তখন সৌরভের বাবার সৌরভকে আশ্বস্ত করে বলেন যে সে যেন খেলার দিকেই মনোনিবেশ করে আর বাকি ব্যাপারটা তিনি দেখবেন।

তারপর চন্ডীদাস বাবু যান ডোনার বাবার সাথে কথা বলতে। ডোনার বাবাতো গলে গেলেন কারণ যতই হোক মেয়ে পছন্দ করেছে কলকাতার যুবরাজকে। অবশেষে ১৯৯৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সৌরভ এবং বাঁধা পড়েন বিবাহ বন্ধনে।

প্রতিটি মানুষের মতো তাঁদের জীবনেও বিবাহ বার্ষিকীর দিনটি ছিল খুবই প্রিয়। প্রতিবছরই সৌরভ ও ডোনা এই দিনটিকে উদযাপন করতেন। কিন্তু ছন্দ পতন ঘটল ২০১৩ সাল থেকে। ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মারা যান সৌরভের বাবা চন্ডীদাস গাঙ্গুলী। তারপর থেকে সৌরভ সেই দিনটাকে আর উদযাপন করেন না। বসন্তের হাওয়ায় রঙিন হয়ে ভালোবাসা থেকে বিয়ের কাহিনীটাকে বলতে গিয়ে আবেগ তাড়িত হতে দেখা গেল এই দুই জুটিকে।