ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদেই রয়েছে করোনা থেকে মুক্তি, তাই এবার একই পথে হাঁটতে চাইছে ভারত সরকারও…

সারাবিশ্ব করোনাকে আটকাতে সমস্ত রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সম্পূর্ণরূপে সাফল্য লাভ করতে পারছে না। ঠিক এমন সময় আয়ুর্বেদ বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে করোনা নিরাময়ে সাফল্যের আশা দেখালো চিন। এনিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হলো। আর এবার ভারত সরকারও এই পথে হাঁটছে। কার্যত এক চীনা বিজ্ঞানী গবেষণা প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে ভারতীয় চিকিৎসা মহলে শোরগোল পড়ে যায়।

কেন্দ্রীয় আয়ুশ সচিব ডা. রাজেশ কোটেচা বলেন, ” বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জেনেছি এবং এর সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই নিয়ে।”এলোপ্যাথিক ঔষধের দ্বারা করোনাকে যেমন জব্দ করার পরীক্ষা- নিরীক্ষা চলছে তেমনি আয়ুর্বেদিক ওষুধের দ্বারা কীভাবে করোনাকে ঠেকানো যায় তা নিয়ে পরীক্ষা- নিরীক্ষা চলছে। রাজ্যের 16 টি আয়ুশ হাসপাতালের অধ্যক্ষকে ডা. কোটেচার চিঠি পাঠিয়েছেন।

এই গবেষণা পত্রটি 4 ই মার্চ ‘এলসভিয়ার’ নামক মেডিকেল জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে এছাড়াও প্রকাশ করা হয়েছে ‘সাইন্স ডিরেক্টর’ জার্নালেও।
আসলে কী এই ওষুধ? ওষুধের উপাদান বলতে রয়েছে আদা হলুদ, দারচিনি, যষ্টিমধুর মতো কতক গুলি পরিচিত উপাদান। এই ধরনের প্রায় 12 টি মসলা মিশিয়ে এই পাঁচনটি তৈরি করা হয়েছে। এটি খেয়ে নাকি করোনা আক্রান্ত রোগীরা চাঙ্গা হয়ে যাচ্ছেন। এমনটাই দাবি করেছেন চীনের তিন বিজ্ঞানীর।

এ বিষয়ে গবেষকদের বক্তব্য, চিনারা প্রায় সবসময়ই প্রথাগত ঔষধে বিশ্বাসী। যার মধ্যে প্রায় অধিকাংশ টাই ভেষজ। এমন প্রায় 12 ধরনের মশলা নিয়ে পাঁচন তৈরি করেন এবং এই পাঁচন 701 জন করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়। আর এই পাঁচন তাদের উপর ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে বলে দাবি করেন। এই ওষুধ 701 জনের উপর প্রয়োগ করার পর এদের মধ্যে 130 জন দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। 51 টি ক্ষেত্রে সমস্ত উপসর্গগুলি ম্যাজিকের মতো গায়েব হয়ে গেছে। 268 জনের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নতি হয়েছিল। 212 জনার ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় অবনতিতে যায়নি। বিশেষজ্ঞ দের মতে, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে অনেকটাই নির্ভর করোনা সংক্রমণ। পশ্চিমবঙ্গের আয়ুর্বেদ পরিষদের সহসভাপতি ডঃ প্রদ্যুৎবিকাশ কর মহাপাত্র এনিয়ে বলেন,” জীবাণু নিয়ন্ত্রণে আয়ুর্বেদ এর ভূমিকা আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে থেকে। চরকমুনির বিমানস্থানের সপ্তম অধ্যায়ে চিকিৎসাস্থানে 20 রকম কৃমিনাশের ওষুধ বলা হয়েছে। তারই কিছুটা চীন প্রয়োগ করছে। এই ওষুধ ভারতেও প্রয়োগ করা হোক এবং এই সম্পর্কে আমাদের পরিষদ সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”