সাফল্য লাভ চীনাপণ্য বয়কটের ডাক, এক ধাক্কায় 25 শতাংশ চীনা পণ্যের আমদানি কমালো ভারত…

গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাদের সংঘর্ষের পর থেকে চীনকে শায়েস্তা করতে ভারত সরকার একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। এই সংঘর্ষের পর থেকেই চীনকে আর্থিক দিক থেকে বেশ বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে ভারত। প্রথম ধাপে কেন্দ্রের তরফ থেকে 29 শে জুন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় যেখানে কেন্দ্র সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ভারত থেকে 59 চীনা অ্যাপ ব্যান করে দেওয়া হয় তবে এখানেই শেষ নয় এরপর আবারও দ্বিতীয় ধাপে আরও 47 টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করে ভারত সরকার।

তাছাড়া এই সংঘর্ষের পর থেকে চীনের সাথে একাধিক চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। শুধু তাই নয় চীনকে শায়েস্তা করতে তাদের একাধিক পণ্যও ইতিমধ্যে ভারতে আমদানিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।আর এখন যে খবরটি বেরিয়ে আসছে সেখানে জানতে পারা যাচ্ছে যে চীনা সংস্থাগুলিকে আর্থিক ধাক্কা দিয়ে চীনা পণ্য আমদানির পরিমাণ এক ঢাক্কায় ভারত কমিয়ে ফেলেছে এবং চীনের আবগারি দপ্তর থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানতে পারে যাচ্ছে এ বছরের শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত চীনা পণ্য আমদানির পরিমাণ কমেছে ভারতে প্রায় 25 শতাংশ।

তার জেরে বলা যেতে পারে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখ দেখছে চীনা সংস্থাগুলি। এক্ষেত্রে চীনের আবগারি দপ্তরের পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে এ বছর জানুয়ারি মাস থেকে ভারতে চীনা পণ্য আমদানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় 24.7 শতাংশ কমেছে এবং এখনো পর্যন্ত চীন থেকে ভারত 32.28 বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। তবে এর পাল্টা জবাবে চীনও ভারত থেকে পণ্য আমদানী কমানোর চেষ্টা করছে তাতে অবশ্য খুব একটা সাফল্য তারা লাভ করতে পারে নি তারা। ভারত থেকে চীনে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ কমেছে 6.7 শতাংশ।

এক্ষেত্রে চীনের সাথে ভারতের লেনদেন কমেছে 19 % এর কাছাকাছি, আর এর বেশির ভাগটাই রয়েছে আমদানির পরিমাণ। যার ফলে এটি চীনের অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দেবে তা বলাই বাহুল্য সরকার চেষ্টা করছে এখন থেকে চীনা পণ্য আমদানির পরিমাণ আরো কমিয়ে দেওয়ার সেই জন্য বেশ কিছু পণ্য বাছাই করা হয়েছে যেগুলির যতটা সম্ভব আমদানি কমাতে চাইছে কেন্দ্র সরকার।যদিও এক্ষেত্রে অনেকেই মানতে চাইছিলেন না যে ভারত চীনা পণ্য বয়কট করে বেজিং কে ধাক্কা দিতে পারবে ভবিষ্যতে।

এক্ষেত্রে অনেকেই মনে করছিলেন চীনা পণ্যের প্রতি ভারতীয়দের আগ্রহ এবং লোভ কিছুতেই কমবে না আগামী দিনে, তবে যাই হোক ভারতীয়রা একথা প্রমাণ করে দিয়েছে তাদের কাছে দেশপ্রেম আগে। এ বিষয়ে চীনা সরকার কেও আগে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছিল যেখানে তারা জানিয়েছিল ভারতবাসী সস্তায় চিনাপণ্য সহজে বয়কট করতে পারবে না কিন্তু ভারতবাসী সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে দেশের জন্য তারা অনেক কিছুই করতে পারে তাই যখন দেশজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয় তখন শুধু চীনা পণ্যের চাহিদা নয় তার পাশাপাশি চীনা পণ্যের আমদানিও কমেছে অনেকখানি।