চীনকে যোগ্য জবাব দিতে ভারতের তরফ থেকে পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়া মাউন্টেন ফোর্স মোতায়েন করা হল লাদাখে..

সম্প্রতি লাদাখ সীমান্ত নিয়ে ভারত এবং চীনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দুই দেশেই লাদাখ সীমান্তে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ব্যস্ত এখন। কারণ এখন পরিস্থিতি যে দিকে এগিয়ে গেছে তাতে যে কোনো সময় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগতে পারে। ইতিমধ্যেই লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় সেনাদের সম্পূর্ন সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। চীনা সেনাদের থেকে আরও একধাপ এগিয়ে ভারত 3488 কিলোমিটার দীর্ঘ LAC তে মাউন্টেন ফোর্সকে মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতের তরফ থেকে মোতায়েন করা এই মাউন্টেন ফোর্স উঁচু জায়গায় গিয়ে শত্রুদের ওপর নজর রাখবে।

এই ফোর্স অত্যন্ত শক্তিশালী। পাহাড়ি এলাকায় যে কোনো পরিস্থিতিতে এই ফোর্সের কোন তুলনা হয় না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চীনকে তাদের কাজকর্মের  যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্যই ভারতের তরফ থেকে এই মাউন্টেন ফোর্সকে মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতের এই স্পেশাল মাউন্টেন ফোর্স গরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য পটু। সবথেকে খারাপ থেকে খারাপ পরিস্থিতিতে এই ফোর্স শত্রুদেরকে কড়া জবাব দিতে পারবে। এই ফোর্সে যারা থাকেন তাদের কে পাহাড়ে লড়াই করার জন্য স্পেশাল ট্রেনিং দেওয়া হয়।

কারগিল যুদ্ধের সময় এই মাউন্টেন ফোর্স পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিয়েছিল। কয়েকদিন আগে চীনের এক এক্সপার্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্বের সবথেকে ভয়ানক সেনা যদি কারোর থাকে সেটা হলো ভারতের। এছাড়াও তিনি আরও বলেছেন যে, ভারতের কাছে যে ভয়ানক সেনা রয়েছে তা আমেরিকা, ব্রিটেন সহ আরও অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোর কাছেও নেই। একটি ইংরেজী সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় এক প্রাক্তন সেনা প্রধান জানিয়েছেন, মাউন্টেন ফোর্সের লক্ষ একদম স্থির থাকে। উত্তরাখণ্ড,লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ আর সিকিমের জাওয়ানদের সাধারণত এই মাউন্টেন ফোর্সে জায়গা দেওয়া হয়।

কারণ এরা যেহেতু ছোট থেকে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে তাই যখন পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধ করতে যাবে তখন তাদের মানিয়ে নেওয়াটা কিছুটা হলেও সহজ হয়ে উঠবে অন্যান্য জাওয়ানদের থেকে। যেহেতু উঁচু উঁচু পাহাড়ে চোরে লড়াই করার সাধারণ জাওয়ানদের পক্ষে কঠিন তাই ভারতের তরফ থেকে মাউন্টেন ফোর্স তৈরি করা হয়েছে। এদেরকে স্পেশাল ট্রেনিং দেওয়া হয় যাতে উঁচু উঁচু পাহাড়ে চড়ে যুদ্ধ করতে তাদের কোন রকম অসুবিধা না হয়।

সম্প্রতি কয়েক দিন আগে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীন এবং ভারতের সেনাদের সংঘর্ষের পর চীন শান্তি আর কথাবার্তার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে নিতে চাইছে। কিন্তু অপর দিকে আবার চীন তিব্বত বর্ডারে তাদের সেনাদের নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এই নিয়ে ভারতের ডিফেন্স স্টাফ এসপি সিনহা জানিয়েছেন, ভারতের ভয়ে চীন বেশি করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সৈন্য মোতায়েন করছে। এছাড়া তিনি আরও বলেন যে, চীন এবং ভারতের এই বিভাগ এত তাড়াতাড়ি মিটবে না।