আবারও বড়সড় ধাক্কা খেলো চীন! মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে ভারতের জয়জয়কার, গড়ল নতুন রেকর্ড

কথাতেই আছে, স্যাকরার ঠুকঠাক কামারের এক ঘা। একটি করোনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে চীন ভেবেছিল বিশ্বের এক নম্বর দেশে নিজেকে পরিণত করবে কিন্তু এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যে একজোট হয়ে চীনকে প্রতিহত করবে তা হয়তো চীন নিজেও বুঝতে পারেনি। তৃতীয় বিশ্বের দেশ ভারতবর্ষও করোনাকে আজ হারিয়ে অনেকটাই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। এবার পাল্টা আঘাতের পালা।

একের পর এক পণ্য থেকে চীনকে বয়কট করার আহবান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সারা ভারতবর্ষের মানুষ আজ বয়কট করেছে চীনকে। একটা সময় ছিল যখন ভারতবর্ষে মোবাইল বলতে আমরা চিনতাম নোকিয়া বা স্যামসাংকে। এরপর মটোরোলা অথবা সনির মত কিছু কোম্পানি ভারতবর্ষে আসে। কিন্তু আজও স্যামসাং গ্যালাক্সি কাছে অন্য ফোন ফিকে হয়ে যায়।

এরপর বাজারে এলো রেডমি, রিয়েলমি ভিভো এবং অপো র মত ফোন। এই কোম্পানিগুলি ভারতবর্ষের মার্কেটকে করায়ত্ত করে নেয়। এই কোম্পানির ফোনে মানুষ কম অর্থের বিনিময়ে পেয়ে যায় প্রচুর ফিচার। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের পকেটে চলে আসে চিনা ফোন। কিন্তু এবার ভারত আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে চলেছে। ভারতবর্ষের ফোন এবার বিশ্বের মার্কেটে বিপুল পরিমাণে বিক্রয় হচ্ছে।

আমদানি রপ্তানিতে বদলানোর জন্য আগে থেকেই কেন্দ্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল তাই ২০১৭-২০১৮ সালের পর থেকে ভারতীয় মোবাইল শিল্প আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারক শিল্পে পরিণত হয়ে যায়। রপ্তানি ২০০ মিলিয়ন থেকে পৌঁছে যায় ১.৭ বিলিয়নে। আমদানি ৩.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৫০০ মিলিয়নে।

বর্তমানে ভারতের মোবাইল আমদানির পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে। এক বছর আগে যে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি টাকা, সেই আমদানি কমে এখন ৬০০ কোটি টাকাতে নেমে এসেছে। ইন্ডিয়া সেলুলার এন্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পঙ্কজ মহিন্দ্র বলেন, ২০১৪- ১৫ সালের পর মোবাইল আমদানিতে এটাই সবথেকে বড় পতন হিসেবে ধরা হয়।

ভারত সরকার অনেক আগে থেকেই চীনের সস্তা উৎপাদনে লাগানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। চীনের স্মার্টফোন কোম্পানিগুলি সস্তা বিতরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেকাংশেই বাজার ধরে ফেলেছিল যার ফলে আমাদের ভারতবর্ষের ক্ষুদ্র শিল্পগুলি অচিরেই শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তাই ভারতবর্ষের শিল্পকে আরো একবার মাথা উচু করে দাড় করানোর জন্য ভারতবর্ষের ব্যবসায়ীদের আরো বেশি করে শিল্প উৎপাদন করার কথা বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী এবং একইসাথে চিনা দ্রব্য বয়কটের কথা বলেছিলেন তিনি।

শুধু মোবাইল ফোন নয়, সবদিক দিয়ে যদি আমরা চিনাপণ্যকে বয়কট করতে পারি তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা ভারতের শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে পারি, লড়াই করতে পারি সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে যারা ব্যবসার আড়ালে আমাদের সকলের ক্ষতি করে দেয়।