আফ্রিকায় চীনের দাদাগিরি কমাতে একজোট ভারত, জাপান, আমেরিকা…

আফ্রিকায় চীনা আগ্রাসন দিনের পর দিন ধরে বেড়েই চলেছে। তাই আফ্রিকায় এই চীনা আগ্রাসনকে দমন করতে আমেরিকা, ভারত এবং জাপান কাজে লেগে পড়েছে। এদের সাথে রাশিয়াও হাত মিলিয়েছে। এতদিন ধরে আমরা সবাই জানতাম রাশিয়া হল চীনের বন্ধুরাষ্ট্র। কিন্তু আফ্রিকায় চীনা আগ্রাসনকে দমন করার কাজে রাশিয়া হাত মিলিয়েছে ভারত, আমেরিকা এবং জাপানের সঙ্গে। চীনের হংকং থেকে প্রকাশিত হওয়ার এক সংবাদপত্র ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোষ্টে’র একটি প্রতিবেদনে এমনই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরেই চাইছে আফ্রিকার দেশ গুলিকে কব্জা করার। তাই আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় সমস্ত দেশগুলিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল চীন। দক্ষিণ এশিয়া বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ গুলিতে চীনের আগ্রাসী বিদেশনীতির অন্যতম অংশ হল ‘ডাবল ট্যাপ’। এটি হচ্ছে চীনের এক ধরনের বিশেষ নীতি। চীনের এটি একটি এমন নীতি যার দরুন ছোট এবং মূলত অনুন্নত দেশগুলোকে তাদের আয়ত্তের বাইরে গিয়ে ঋণ দিয়ে থাকে। এরপর ওই দেশটি যখন চীনের সেইদিন পরিশোধ করতে পারে না তখন চীন তাদের আগ্রাসন দেখায় সেই দেশটির ওপর।


তারপর আস্তে আস্তে চীনের পাতা ফাঁদে পা দিতে থাকে ওই দেশটি। এবং ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে সাজা হিসেবে তাদের বন্দর এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো লিজ হিসেবে নিয়ে নেয় চীন। সেই দেশটির সার্বভৌমত্ব কেয়ার না করেই এই সমস্ত কিছু করতে থাকে চীন। চীন এই নীতি আফ্রিকাতেও এই প্রয়োগ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারত, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান একজোট হয়ে চীনকে কড়া জবাব দেয়। এবং সব থেকে অবাক হওয়ার বিষয় হলো চীনের বিরুদ্ধে ভারত, আমেরিকা এবং জাপানের সাথে একজোট হয়েছে রাশিয়াও।

আপনাদের জানিয়ে দি, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করার কথা বলেছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় 5 বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভারত খুব একটা পিছিয়ে নেই। ভারতীয় রেলওয়ে তরফ থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রেলওয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছে। এমনকি কিছু কিছু বেসরকারি সংস্থা গুলি বিনিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছে। তাই স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে এবার থেকে আফ্রিকার উপর চীনের এই দাদাগিরি একেবারেই চলবে না।