মহামারীর শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে ভারত, ২০২২ এর মধ্যে স্বাভাবিক হবে জনজীবন জানাল WHO

গোটা বিশ্বের স্বাভাবিক জীবন স্তব্ধ করে দিয়েছিল কোভিড-১৯ ।প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর এবার শিওরে তৃতীয় ঢেউ। হু -এর তরফ থেকে বলা হচ্ছে তৃতীয় ঢেউ সবথেকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে ভারতের পক্ষে এবং অক্টোবরেই সংক্রমনের শীর্ষে পৌঁছাবে ভারত। গোটা বিশ্ব যখন নাজেহাল এই মরণ ভাইরাস কে নিয়ে তখনই স্বস্তির বার্তা দিল হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি বৈঠকের জানানো হয়েছে সম্ভবত কোভিড অতিমারির শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করছে ভারত। হু এর মুখ্য বিজ্ঞানী ডক্টর সৌম্য স্বামীনাথন একথা জানিয়েছেন।

প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর তৃতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ হার সবথেকে দ্রুত হবে একথা আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে দিয়েছিল। ইতিমধ্যে ভারতে টিকা করন প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। তবে শিশুদের টিকা করন এখনো চালু হয়নি । চিন্তার বিষয় ছিল এই তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরা আক্রান্ত হবে বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর মতে যেকোনো অতিমারি শেষ পর্যায় কে বলা হয় বলা এন্ডেমিক পর্যায়। যেকোনো অতিমারির সংক্রমনের শেষ পর্যায়ে তার তীব্রতা কমে আসে । এবং যেকোনো একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে তা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

ভারতে কভিডের যা গ্রাফ তাই দেখে অনুমান করা যাচ্ছে এই এন্ডেমিক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে ভারত। সৌম্য স্বামীনাথন এর কথায় “এন্ডেমিক পর্যায়ে সংক্রমণ কম বা মাঝারি থাকে, প্রতিদিনের মতো তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়েনা। বর্তমান কভিড নাইনটিন এর গ্রাফ দেখে সে কথাই অনুমান করা হচ্ছে। ”

ভারত মূলত তৃতীয় বিশ্বের দেশ এবং একটি অত্যন্ত জনঘনত্ব পূর্ণ দেশ। সেখানে সংক্রমণ যে একেবারেই বাড়বে না তা নয়। তবে এন্ডেমিক পর্যায়ে পৌঁছালে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা বিভিন্ন হবার জন্য বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় সংক্রমণ বাড়তে পারে ,এমনটাই দাবি বিজ্ঞানিদের। হু এর তরফ থেকে ধারণা করা হচ্ছে ভারতে মূলত যে সমস্ত অঞ্চলে করোনার প্রথম ঢেউয়ে সংক্রমণ ছিল এবং যেখানে টিকা করনের প্রক্রিয়ার কম হয়েছে মূলত সেই সমস্ত অঞ্চলে সংক্রমণ বেশি হবে।

তবে এই তৃতীয় ঢেউয়ের পর ধীরে ধীরে অতিমারি শেষের দিকে এগোবে । এবং আশা করা যাচ্ছে ২০২২সালের মধ্যে ভারত আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পাবে । এখন শুধু অপেক্ষা এটাই কবেকবে এই অতিমারিকে পিছনে ফেলে ভারত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবে।