বাজারের অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের দশটি বড় ঘোষণা

শুক্রবার নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান আর্থিক মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গত 70 বছরে এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি। 70 বছরের মধ্যে এই পরিস্থিতি ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যানের কথা উড়িয়ে দিলেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ গোটা বিশ্বেই আর্থিক মন্দা চলছে। তার প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও পড়েছে। তবে আমেরিকা এবং চীনের থেকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ভালো।

মোদি সরকার দেশের আর্থিক সংস্কারের কাজ চলছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। শুধু অর্থনীতি নয় একইসঙ্গে শিল্পক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে কতকগুলি দাওয়াই দিয়েছেন নির্মলা সীতারমন। রোপো রেটের সুবিধা গ্রাহকদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদি সেই সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে গাড়ি-বাড়ি ঋণের সুদ কমবে। ব্যাঙ্কগুলিকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে 70 হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষনা করে দিয়েছে।

 

এর ফলে ব্যাঙ্কগুলির ধার দেওয়ার ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাতে আর্থিক হাল কিছুটা হলেও ফিরবে। এছাড়াও স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র শিল্পে উৎসাহ বাড়াতে কিছু দাওয়াই নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী।তারমধ্যে জিএসটি সরলীকরণ এবং কর ছাড়ের ঘোষণা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই চলতি বছরের ছোট শিল্প গুলিকে দেওয়া জিএসটি 30 দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

নীচে অর্থমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো –
1. ব্যাঙ্কগুলিকে পুনর্জীবন করার জন্য 70 হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
2. শিল্পক্ষেত্রে মূলধনী ঋণের সুদ কমবে।
3. এটি হলে গাড়ি-বাড়ি ঋণের সুদের হার কমতে পারে।
4. ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আরবিআই এর রেপো রেট কমানোর কথা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে।
5. পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে 100 লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বিনিয়োগের বিষয় দেখাশোনা করার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে।
6. সরকারি সংস্থাগুলিকে পুরনো গাড়ি পাল্টে নতুন গাড়ি ব্যবহার করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

7. ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে 60 দিনের মধ্যে জিএসপি ফেরত দেওয়া হবে।
8. ঋণ শোধ করার 15 দিনের মধ্যে গ্রাহকদের সমস্ত নথিপত্র দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
9. অনলাইনে শুনানি, স্কুটনি, সেল্ফ সার্টিফিকেট চালু করায় অনেক সুবিধা হয়েছে।
10. 2014 সাল থেকে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই আর্থিক সংস্কারের কাজ চলছে।