দেশনতুন খবরব্যবসালাইফ স্টাইল

ডোকলামের থেকেও বড় সংঘাতে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-চীন, ক্রমশ বাড়ছে ভারত ও চীনের উত্তেজনা! চিন্তিত বিশেষজ্ঞমহল..

গত কয়েক মাস ধরেই চীনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশ গুলিই। ভারত ও বাদ যায়নি। বর্তমানে সারা বিশ্ব জুড়ে যে মহামারী চলছে তার জন্য চীনকে দায়ী করেছে আমেরিকা থেকে শুরু করে সমস্ত দেশ গুলো। যদিও চীন এখনো পর্যন্ত অস্বীকার করছে যে তারা এই ভাইরাসকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ছড়ায় নি। কিন্তু বাকি সমস্ত দেশগুলি এমনটাই দাবি করছে কে চীন এই ভাইরাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাইরের দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র ভাইরাস নিয়ে নয় এবার অন্য দিক থেকেও ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক বছর আগে ডোকলামে এক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল। তখন প্রায় 73 দিন সামনা সামনি দাঁড়িয়ে ছিল ভারত এবং চীনের সেনাবাহিনীরা। যদিও এরপর থেকে এই দুই দেশের সম্পর্ক সেইভাবে তিক্ত হতে দেখা যায়নি। কিন্তু এবারে যে সংঘাত লেগেছে চীন এবং ভারতের মধ্যে তা কিন্তু সহজেই মিটবে না বলে মনে করেছেন অনেকেই। সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতিতে চীনের এই সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।কন্ট্রোলের কাছে লাদাখে একদম সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের সেনা। প্রাক্তন আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেএস হুডা জানিয়েছেন,’ এটা মোটেই স্বাভাবিক ঘটনা বলা চলে না। গাওয়ান ভ্যালিতে এভাবে চীনা সৈনিকের আনাগোনা একেবারেই উচিত নয়। তিনি জানিয়েছেন ওই অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোন বিতর্ক নেই তবুও চীন ওখানে সেনা মোতায়েন করেছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ অশোক বাবুর গলাতেও ওই সুর শোনা গেছে। তিনি জানিয়েছেন এর আগেও চীনের সেনারা এরকম কাজ করেছে। তবে এবারের যেটা চীনের সেনারা করেছেন তা আরো উদ্বেগ জনক। 2017 সালে ডোকলামে সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে ছিল দুই দেশের সেনা।

খবর পাওয়া গেছে 5 ই মে সন্ধের সময় চীনের প্রায় 250 জন সেনা ওই অঞ্চলে প্রদর্শন করেছেন।তারপর থেকেই পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে। ঠিক এরকম একটি ঘটনা ঘটে 9 মে নর্থ সিকিমে। 5 তারিখে লোহার রড নিয়ে কার্যত লড়াই চলে দুই দলের মধ্যে। এমনকি ওখানে পাথর ছোড়ার মতনও ঘটনা ঘটে যায়। অন্যদিকে এইসবের মধ্যে ভারতে আটকে পড়ে থাকা চীনা নাগরিকদের দেশে ফেরাতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে চীন। তাদের দাবি যে সমস্ত চীনা নাগরিকরা ভারতের পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসার জন্য এসে আটকে পড়েছেন তাদের কে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে বিশেষ বিমান চালনা করতে চাইছে এই কমিউনিস্ট দেশটি। সোমবার এমনই এক বিজ্ঞপ্তি দেখা গিয়েছে দিল্লির চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে। তবে করোনা আতঙ্কের মধ্যে ভারত সীমান্তে সেনা কার্যকলাপ বাড়িয়ে  দিয়েছে চীন, তার পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরে লাদাখে অস্বাভাবিকভাবে সেনা-জওয়ানের সংখ্যা বাড়াচ্ছে বেজিং। তাই সাম্প্রতিক এরকম এক পরিস্থিতিতে চীনের এই সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। চীনের এই সিদ্ধান্ত যে শুধু করোনার কথা মাথায় রেখে নেওয়া নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Articles

Back to top button