ক্রমশ বাড়ছে চাপ! ওপার বাংলার অভিনেত্রীদের কাছে কার্যত কোণঠাসা মিমি-নুসরাত

বাংলা ছবি ক্ষেত্রটি খুবই ছোট। তার উপর আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীকেন্দ্রিক ছবিও খুব কমই হয় । ক্ষমতা দখলের লড়াই সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে একটি সহজ ব্যাপার । বিনোদন জগতের ক্ষেত্রেও সেরার লড়াইয় আছে। প্রথম সারির অভিনেতা- অভিনেত্রী হিসেবে হওয়া, এক নম্বর হওয়ার প্রতিযোগিতা চিরাচরিত ধরেই হয়ে আছে । যদিও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা একথা কখনোই স্বীকার করেন না। ‘প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নয়’ এমন কথা প্রায় সমস্ত সাক্ষাৎকারেই তাঁদের মুখ থেকে শোনা যায় ।

ক্ষমতা দখলের লড়াই প্রসঙ্গে কিছু প্রশ্ন করলেই তাঁরা বলেন “নিজের কাজেই শুধুমাত্র ফোকাস করতে চাই” এই ধরনের কথাবার্তা। কিন্তু আমরা সকলেই জানি একথা সত্য নয়। প্রতিযোগিতার উপর নির্ভর করেই তৈরি এই ইন্ড্রাস্ট্রি । আজ যেই অভিনেতা-অভিনেত্রী নিজের সেরাটা দিচ্ছেন কাল হয়তো তিনি তলিয়ে যেতে পারেন অন্য অভিনেতা- অভিনেত্রীর অভিনয়ের চাপে। তাই সময় সবসময়ই অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে যোগ্যতা ক্ষমতা পরিস্থিতি পিআর এই সমস্ত লড়াই চলতে থাকে।

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আগেও এবং বর্তমানে বেশ কিছু ওপার বাংলার অভিনেত্রী সুদক্ষ ভাবে কাজ করছেন। তবে আমরা অনেকেই জানি প্রকাশ্যে ওপার বাংলার অভিনেত্রীদের নিয়ে সেভাবে মুখে কিছু না বললেও টলিউডের অভিনেত্রীদের মনে তাদের নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। টলিউডের আবর্ত নামক ছবির মাধ্যমে প্রথম আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ওপার বাংলার বিখ্যাত অভিনেত্রী জয়া আহসানের । এই বাংলাদেশী অভিনেত্রী টলিউডে অনেক বছর ধরেই কাজ করেছেন এবং যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন।

Advertisements

‘রাজকাহিনী’,’বিজয়া’, ‘বিসর্জন’, ‘বিনিসুতোয়’ ইত্যাদি বিভিন্ন সিনেমা করে তিনি যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছেন । বেশ কয়েকটি ছবি তার মুক্তির অপেক্ষায়। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন টলিউডে বেশ হৈচৈ ফেলেছেন। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ওয়েব সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ তে অভিনয় করে তিনি যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছেন। এই ওয়েব সিরিজে তার সুদক্ষ অভিনয় দেখে অন্যান্য পরিচালকরাও ভবিষ্যতে তাঁকে দিয়ে অভিনয় কথা ভাবনা চিন্তা করছেন।

Advertisements

এছাড়া ওপার বাংলার অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা রাজর্ষি দের ‘মায়া’ ছবিটি করে সকলের নজরে এসেছেন । এছাড়া মিথিলার পরিচালক লিঙ্গ পরিচালিত ‘আ রিভার ইন হেভেন’ ছবিটি ও বহুল চর্চিত হয়েছে। বর্তমান টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বাণিজ্যিক ছবির বাজার কমতে শুরু করেছে। আগে যেমন দেব, নুসরাত, মিমি, শুভশ্রীর ইত্যাদির অভিনীত বাণিজ্যিক ছবি বাজারে হটকেক ছিল বর্তমানে তা অনেকটাই ভাটা পড়েছে । অন্যধারা ছবির দিকে ঝুঁকছেন সিনেমাপ্রেমীরা।

সম্প্রতি ওপার বাংলায় এই বাংলার এই তিন অভিনেত্রী অন্য ধারার ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যা আগে টলিউডের পাওলি দাম ,স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, রাইমা সেনের দেখা যেত। বর্তমানে বাণিজ্যিক ছবির বাজার কম থাকার জন্য মিমি ,নুসরাত , শুভশ্রী ইত্যাদি অভিনেত্রীরাও অন্যধারা ছবির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ওপার বাংলার অভিনেত্রী দের সঙ্গে সহজভাবেই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন এপার বাংলার অভিনেত্রীরা ।এই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এপার বাংলার এক অভিনেত্রী বলেন, “এমন অনেক চরিত্রই বাংলাদেশী নায়িকাদের দেওয়া হচ্ছে যা আমরা করতে পারতাম। “

তবে ওপার বাংলার অভিনেত্রী দের গলায় প্রতিযোগিতার কোন সুর নেই । জয়া, মিথিলারা মনে করেন প্রতিযোগিতায় না গিয়ে ভালো কাজের মর্যাদা দেয়া উচিত। তারা এ-ও বলেন এপার বাংলার অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী যেমন প্রসেনজিৎ ,ঋতুপর্ণা, পরমব্রত অনেক আগেই বাংলাদেশে গিয়ে অভিনয় করেছেন ।জয়ার কথায় , “সমস্ত কাজেই সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকা ভালো”। বাংলাদেশী অভিনেত্রী মিথিলা বলেন, “বৈবাহিক সূত্রে কলকাতায় থাকি। তাই জন্য এখানে কাজ করছি। তাই টলিউডের অভিনেত্রীদের আমাকে প্রতিযোগী হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক না। সবাই নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়। ”

সম্প্রতি ‘কমান্ডো’ ছবিতে অভিনয় করছেন দেব এবং এই ছবির শুটিং হচ্ছে বাংলাদেশে। আবার ওপার বাংলার অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া এবার বাংলায় এসো অভিনয় করছেন। শুধুমাত্র টলিউডের অভিনেত্রীরা যে টলিউডে বাংলাদেশ এ কাজ করেন এমনটা নয় পরমব্রত থেকে আরম্ভ করে পাউলি দাম, ঋতুপর্ণা সবাই বলিউডে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশী অভিনেত্রীদের কথায় এই ধরনের চর্চা আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মনের চাপ বৃদ্ধি করে। শিল্পের কোন তুলনা হয় না । আমরা এখানে এসে কাজ করলে টলিউড অভিনেত্রী দের মনে চাপ বৃদ্ধি হয় এগুলো কখনোই ঠিক নয় । তবে এপার বাংলার অভিনেত্রীদের কথায় বাংলাদেশ কাজের সুযোগ এবার বাংলা থেকে অনেক বেশি।

ওপার বাংলার অভিনেত্রী আজমির হক বাঁধন বলেন “এই সমস্ত প্রতিযোগিতার কথা চর্চা না করে সদর্থক দিক গুলি আলোচনা করলে ভাল হয়। সকলেই নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবেন।” তবে এপার বাংলা ওপার বাংলা অভিনেতা অভিনেত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও সবাই একটা বিষয়ে একমত সেটি হল প্রতিভার কোন মূল্যায়ন হয় না । প্রতিভাই শেষ কথা। নিজের যোগ্যতা থাকলে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ সবাই পাবে । প্রতিযোগিতা আগেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।