চাপ বাড়ল গ্ৰাহকদের! এক ধাক্কায় ভর্তুকিহীন গ্যাসের দাম বাড়লো ১০৩ টাকা

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে প্রায় সব কিছু জিনিসের মূল্য আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষকে তাদের জীবন যাপনের জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির পর থেকে বহু মানুষ যেমন নিজের কাজ খোইয়েছে তেমন সব কিছু জিনিসের মূল্য ক্রমে বেড়েই চলেছে। তার সাথে আবারও দাম বাড়তে চলেছে রান্নার গ্যাসের। ২০২১ এর শেষ মাস অর্থাৎ পহেলা ডিসেম্বর থেকে রান্নার গ্যাসের দাম আবারো বাড়তে চলেছে। তার সাথে বাণিজ্যিক গ্যাস অর্থাৎ ভর্তুকিহীন সিলিন্ডার এর উপর এক ধাক্কায় ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ছে। এখন ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাস অর্থাৎ ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম বের হচ্ছে ২১৭৭ টাকা।

তবে বাড়ির গ্যাসের ক্ষেত্রে চিন্তার কোন কারণ নেই। বাড়ির রান্নার গ্যাস আর্থাৎ ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের দাম আপাতত বাড়ানো হচ্ছে না। ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া রান্নার গ্যাস এর মূল্য থাকছে ৯২৬ টাকা। গত সপ্তাহে এক মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানানো হয়েছিল যে সরকার গ্যাসের ভর্তুকি বিষয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের তরফ থেকে কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। সরকারের কাছে দুটি বিকল্প রয়েছে প্রথমটি বিনা ভর্তুকিতে সিলিন্ডার সরবরাহ করা আর দ্বিতীয়টি কিছু গ্রাহককে ভর্তুকি দেওয়া।

যে সমস্ত গ্রাহককের আয় ১০ লাখ টাকা তারা ভর্তুকি তে সিলিন্ডার পাবে না। আর যে সমস্ত গ্রাহকেরা উজ্জ্বলা অধীনে থাকবে তাদের ভর্তুকি দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দরিদ্রসীমার নিচে থাকা মানুষদের জন্য শুরু করেছিল এই ভর্তুকি প্রথা। ভারতে এলপিজি গ্যাসের কানেকশন রয়েছে প্রায় ২৯ কোটি মানুষের। এরমধ্যে উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে প্রায় ৮.৮ কটি এলপিজি কানেকশন রয়েছে। আর আগামী ২০২২ এর বাজেট পেশ করার সময় সরকার আরও এক কোটি কানেকশন যোগ করার পরিকল্পনা করছে।

২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে যখন সারাবিশ্বে লকডাউন হয়েছিল সেই সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক হারে কমে যায়। আর ভারত সরকার সেই সময় এলপিজি সাবসিটি যোজনা লাভবান হয়েছিল। আর ২০২০ সালের মে মাস থেকে সাবসিডি বন্ধ হয়ে যায় তবে দূর-দূরান্তের গ্রাম অঞ্চল গুলির ক্ষেত্রে আর যেগুলি এলপিজি প্লান্ট থেকে দূরে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকি ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছিল।

এলপিজি সিলিন্ডারে যারা সাবসিটি আওতায় যে সমস্ত গ্রাহকেরা থাকেন না তাদের গ্যাসের সম্পূর্ণ মূল্য দিতে হয়। সরকারের তরফ থেকে সাবসিটি এর মূল্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি রিফান্ড করা হয়। ২০২০ সালে সাবসিটি জন্য সরকারের টাকা খরচ হয়েছিল ২৪,৪৬৮ কোটি টাকা। ২০২১ এ তা কমে দাঁড়ায় ৩৫৫৯ কোটি টাকা।