শ্রাবণ মাসে শিব ভক্তরা ভুলেও খাবেন না এই তিনটি খাবার

বাবা মহাদেব হলেন পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। শিবকে তুষ্ট করতে শিব ভক্তরা বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের প্রত্যেক সোমবার, শিবরাত্রি ধরে নিয়ে বাবার মাথায় বেলপাতা ও দুধ গঙ্গাজল দিয়ে থাকেন। আপনি যদি শিবভক্ত হন তাহলে তো নিশ্চয়ই শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবারে বিশেষভাবে শিবের পুজো করেন। তবে শুধু শিব ভক্তরাই নয় অনেক হিন্দুরাই শ্রাবণ মাসের সোমবার গুলি বেশ ঘটা করে পালন করেন। উপবাস করেন। মহাদেব কে তুষ্ট করতে ব্রত পালন তো করছেন কিন্তু জানেন কি শ্রাবণ মাসের শিব ভক্তদের বিশেষ তিনটি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এই মাসে ভুলেও ওই তিনটি খাবার ছোঁবেন না। এই সম্পর্কে রয়েছে একটি বিশেষ গল্প।

প্রচলিত গল্পে শ্রাবণ মাসের সোমবার নিয়ে পুরানে রয়েছে একটি বিশেষ গল্প এই গল্প হল এক ঋষির তার নাম মৃকান্ড। মৃকান্ড সন্তান লাভের জন্য তার স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবের উপাসনা করতে শুরু করেছিলেন। তার এই উপাসনায় ভগবান শিব সন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং তাদেরকে আশীর্বাদ করেন যে তারা প্রখর বুদ্ধিমান ও স্বল্প জীবনের একটি সন্তান লাভ করতে পারেন অথবা অল্পবুদ্ধির দীর্ঘজীবনের সন্তান পেতে পারেন। মৃকান্ড ও তার স্ত্রী স্বল্পআয়ের বুদ্ধিমান সন্তান বেছে নেন ভগবান শিবের কাছ থেকে। এরপর জন্ম হয় মার্কণ্ডের।

ছোট থেকেই শিব ভক্ত ছিলেন মার্কন্ড। ছোটবেলায় শিবলিঙ্গের সামনে একবার কঠিন তপস্যা শুরু করেছিলেন তিনি। সেই সময় যমদূত এরা তাকে নিয়ে আসার জন্য এসেছিলেন কিন্তু মার্কণ্ডেয়ের তপস্যা ভঙ্গ করতে না পেরে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তারা। ৩০ দিন পর স্বয়ং যমরাজ আসেন মার্কন্ড কে নিয়ে যেতে। কিন্তু একজন প্রকৃত ভক্তকে তপস্যারত অবস্থায় বিরক্ত করার জন্য যমরাজ কে শাস্তি দিতে নেমে আসেন বাবা মহাদেব। মার্কণ্ডেয়ের তপস্যার এই এক মাসই শ্রাবণ মাস হিসাবে নির্ধারিত। এই সময় কয়েকটি খাবার এড়িয়ে চলা বাঞ্ছনীয়।

যেমন বেগুন তবে এর পিছনে যেমন ধর্মীয় কারণ রয়েছে সাথে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। বেগুন বর্ষাকালে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই এই সময় বেগুন না খাওয়াই ভালো অন্যদিকে শ্রাবণ মাসে কোন দুগ্ধজাত দ্রব্য না খাওয়াই শ্রেয়। আর শেষ যে খাবারটি আপনার এড়িয়ে যাওয়া উচিত এই মাসে তা হলো সবুজ শাকসবজি। বৈজ্ঞানিক মত অনুসারে বর্ষাকালে সবুজ শাকসবজিতে পোকামাকড় ও ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, তাই এই সময় শাকসবজি খুব বেশি না খাওয়াই ভালো।