ভারতকে জ্ঞান দিতে গিয়ে সারা বিশ্বজুড়ে হাসির পাত্র হয়ে দাঁড়ালেন ইমরান খান।

আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় অন্যদিন থেকে কিছুটা আলাদা, পাকিস্থানে সংখ্যালঘু মাত্র ৪ শতাংশ এবং ৯৬ শতাংশ মুসলিমরা বসবাস করেন। আবার পাকিস্তানে ওই ৪ শতাংশের মধ্যে ১.৮৫ শতাংশ হিন্দু , ১.৫৯ শতাংশ খ্রিস্টান , ০.২২ শতাংশ আহমদী এবং ০.৭ শতাংশ অন্যান্য ধর্মের মানুষেরা বাস করেন। এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মন্তব্য করে লোক হাসিয়েছেন। তিনি ভারতের সরকার কে কেন্দ্র করে বলেছেন , লঘু সম্প্রদায় কে কিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় তা নাকি ভারতকে পাকিস্তানের কাছে শেখা উচিত। আর তার পর থেকেই দেশে বিদেশে চারদিকে এই মন্তব্যকে ঘিরে হাস্যকর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিয়ে একটু সমীক্ষা করলে তা ভালোভাবে প্রমাণ হয়ে যায় যে, পাকিস্তান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে!১৯৪৭ সালের সময় থেকেই যেখানে লক্ষাধিক মানুষ বাস করত পাকিস্থানে এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মের সময় প্রায় ২৩ শতাংশ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করত পাকিস্তানের। আর যেটি বর্তমানে ৪ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হল কোথায় গেল সে সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায় গুলি, তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে না তাদেরকে জোর করিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে নেওয়া হয়েছে ! বুন্দেলশহরের ঘটনার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র জগতের নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছেন,”দেশে পুলিশকর্মীর থেকে গরুর দাম বেশি “. তার এমনটাই বক্তব্য পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের বিতর্কের অন্ত রাখেনি।

মাঝে মাঝে পাকিস্তানের সরকারকে মহম্মদ আলি জিন্নার বাণী প্রকাশ করতে দেখা যায় টুইটারে। মোহাম্মদ জিন্না নাকি বলেছিলেন বাঙালি হিন্দুরা মন্দিরে যাবে মুসলিমরা মসজিদে যাবে, যার যে ধর্ম পছন্দ সে সেই ধর্ম নিতে পারে। সবাই স্বাধীন, সরকারের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে পাকিস্তানের সরকারের এখনকার পরিস্থিতি দেখে এমনিতেই ভেঙ্গে পড়তেন। আজ পাকিস্তান ভারত থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন একটা দেশ হতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু তারা কি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে ! শেষমেশ তারা নিজেকে চীনের হাতে বিক্রি করে দিয়েছে। পাকিস্তানের যুবকরা বেকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে, উন্নতি নেই। আপনাদের মনে করিয়ে দিই, ২০০৯ পাকিস্তানে খ্রিস্টান পল্লীতে দাঙ্গা, ২০১২ তে সিকদা এর খুন , ২০১৩ ই বোমাবাজির ঘটনা। এতকিছু হওয়া সত্বেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন কি করে!

পাক প্রধানমন্ত্রী ভালো করেই জানেন সারা বিশ্ব পাকিস্তানকে এখন একটু খারাপ চোখেই দেখছে , এর কারণেই পাকিস্তানের পাসপোর্ট এর ও পর্যন্ত বদনাম হয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তানের আতংবাদি সাংগঠনিক কারবার কারো কাছে লুকিয়ে নেই।