আগামী দিনে টুইটারে কী কী আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন, টুইটার কেনার পরেই জানালেন ইলন মাস্ক

দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, তবে অবশেষে টুইটার কিনে নিলেন টেসলার সিইও ইলন মাস্ক। নানা আলোচনা, সমালোচনা, প্রতিরোধের অন্তরায় পেরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোটি কোটি টাকার চুক্তিতে প্রাইভেট কোম্পানীতে রূপান্তরিত হচ্ছে জনপ্রিয় মাইক্রো ব্লগিং প্ল্যাটফর্মটি, তবে টুইটার ও ইলনের এই চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। টুইটার কেনার পর বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন টুইট করে বলেছেন, এটি কিনতে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৪৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ, ৪,৪০০ কোটি ডলার।ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা।

কিছুদিন আগেই প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের ৯.২ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন ইলন। এইবার পুরো মালিকানাই হলো তাঁর। মাস্কের দাবি, তিনি টুইটারের অংশীদার হওয়ার সময়ে ভেবেছিলেন টুইটার বিশ্ব জুড়ে বাক্‌স্বাধীনতার মূল মাধ্যম হয়ে উঠবে, কিন্তু বিনিয়োগ করার পরেই নাকি তিনি উপলব্ধি করেন যে, এটা কখনোই সম্ভব নয়। তাই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে এর বদল ঘটানোই তাঁর লক্ষ্য বলে ঠিক করে নেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলনের টুইটার কেনার কথা ছড়িয়ে পড়লেও, তিনি নিজে এই বিষয়ে কিছুই বলেননি।

মালিকানা হস্তান্তরিত হতে না হতেই তিনি একটি আর্টিকেলের অংশ টুইট করেছেন, যেখানে তাঁর টুইটার পরিচালনা সম্পর্কিত মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর মতে, কোনো গণতান্ত্রিক কাঠামোর কাজ করার জন্য বাকস্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর সেক্ষেত্রে টুইটার হল একটি ডিজিটাল টাউন স্কোয়ার, যেখানে মানবতার ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি টুইটারে নতুন ফিচার যোগ করে এটিকে আরো উন্নত করে তোলার কথা বলেছেন। ইলন টুইটে আরো লেখেন যে, আগামী দিনে টুইটারের অ্যালগরিদম ওপেন সোর্স করা হবে, যাতে ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়।

তিনি স্প্যাম বটগুলিকেও এখান থেকে সরিয়ে ফেলতে চেয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এটিকে সার্চেবল এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সিস্টেম হিসাবে ডিজাইন করা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। সবাই এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটটির পরিবর্তন খোলামনে গ্রহণ করছেন না। সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ পরাগ আগরওয়াল ফার্মটির ভবিষ্যত ‘অন্ধকার’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আবার নেটিজেনরা বিষয়টি নিয়ে তামাশা করতে শুরু করেছেন, ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে প্রচুর মিমও।