সুখবর! নাম নথিভুক্ত করলেই মিলবে সরাসরি সুযোগ, পেয়ে যাবেন 36 হাজার টাকা..

এর আগে বহুবার বিভিন্ন যোজনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেহেতু এই লকডাউনের সময় অসংগঠিত ক্ষেত্রে যে সমস্ত মানুষেরা কাজ করে থাকেন তারা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তাই তাদের কথা ভেবে মোদি সরকার তিনটি পেনশন যোজনা নিয়ে এসেছিলেন। বর্তমানে এখনো পর্যন্ত দেশের 68,82,550 জন এর মাধ্যমে নাম এই যোজনাতে নথিভুক্ত করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সাধারন মানুষরা পেয়ে যেতে পারেন বছরে 36 হাজার টাকা পেনশন।

কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এখনো পর্যন্ত যারা নাম নথিভুক্ত করেননি তারা এই যোজনা নাম নথিভুক্ত করে নিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারেন। কেন্দ্র সরকারের চালু করায় তিনটি পেনশন যোজনা হলো, প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মানধন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষান মনধন এবং লঘু ব্যাপারীক পেনশন যোজনা। তিন বর্গের মানুষদের জন্য তিন ধরনের পেনশনের সুযোগ- সুবিধা করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরফলে বৃদ্ধ বয়সে কারো কাছে হাত পাততে হবে না ওই ব্যক্তিকে। জীবন্ত কাল পর্যন্ত মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ করে দেবে এই যোজনা গুলি। তবে এই যোজনার কতগুলি শর্ত দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। আসুন এবার নিচের শর্তগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হোক —-

1. প্রধানমন্ত্রী কিষান মনধন যোজনা –এই প্রকল্পের প্রথম শুভ সূচনা হয় 12 সেপ্টেম্বর 2019 সালের ঝাড়খন্ডে। যদিও এই যোজনা 19 আগস্ট থেকে নাম নথিভুক্ত এর কাজ শুরু করেছিল সরকার। এই যোজনা মূলত কৃষকদের জন্য করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্প এখনো পর্যন্ত 20,19,220 জন কৃষকের নাম নথিভুক্ত করা রয়েছে এতে। এবং এই প্রকল্পের আওতায় যে সমস্ত কৃষক রয়েছেন তারা 60 বছর বয়সের পর প্রত্যেক মাসে 3000 টাকা করে পেনশন পাবেন।

এই প্রকল্পের ফলে প্রায় 12 কোটি প্রান্তিক কৃষক যাদের কাছে কমপক্ষে দুই হেক্টর পর্যন্ত কৃষিকাজ করার যোগ্য জমি রয়েছে তারা এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের যোজনাতে নাম নথিভুক্ত করার জন্য কোন টাকা দিতে হবে না কৃষকদের। তবে কোন কৃষক যদি এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা নাম নথিভুক্ত করেছেন তাহলে ওই কৃষককে নতুন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে না।2. লঘু ব্যাপারীক পেনশন যোজনা :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই যোজনা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন 12 সেপ্টেম্বর 2019 সালে। এই যোজনা মূলত ছোট ব্যাপারীদের জন্য চালু করা হয় কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে। যারা ছোট খাটো ব্যবসা করেন তাদের জন্য এই যোজনা ব্যাপকভাবে সুবিধা দান করবে। যারা এই যোজনা অন্তর্গত থাকবেন তারা 60 বছর বয়সের পর থেকে প্রতি বছরে 36 হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। যে সমস্ত দোকানিরা বছরে 1.5 কোটি টাকার কম রোজগার করেন তারাই এই যোজনা অন্তর্গত হতে পারবেন। 3. প্রধানমন্ত্রী সমযোগী মানধন যোজনা :- এই যোজনার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 5 মার্চ 2019 সালের গুজরাটে এই যোজনা চালু করেন তিনি। 15 ফেব্রুয়ারি থেকে এই যোজনায় নাম নথিভুক্ত করনের কাজ শুরু হয়েছিল। যে সমস্ত মানুষের প্রতিদিনের মজুরি হিসেবে কাজ করেন তাদের জন্য এই যোজনা চালু করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। এই যোজনার মাধ্যমে মানুষেরা 60 বছর পর থেকে প্রতি বছরের 36 হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন। যারা মাসে 15000 টাকার কম রোজগার করেন তাদের জন্যই মূলত এই যোজনা চালু করা হয়েছে। 5 মে 2020 পর্যন্ত এই যোজনায় মোট 43,84,595 জন মানুষ রয়েছেন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন যাদের ইএসআই বা আয়কর দিতে হয় তারা এই যোজনার সুবিধা পাবেন না। এই তিনটি প্রকল্পে অন্তর্গত হওয়ার জন্য কিছু শর্তাবলী মেনে চলতে হবে। কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে দেওয়া শর্তাবলী গুলি হল : যে সমস্ত মানুষের ইপিএফ, ইএসআই বা আইকরদাতা নন তারাই এই তিন যোজনা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। আর মনে রাখতে হবে এই যোজনা অন্তর্গত ব্যক্তির বয়স 18 থেকে 40 বছরের মধ্যে যেন হয়। এছাড়াও নথী হিসেবে আবেদনকারীর আধার কার্ড এবং মোবাইল নাম্বার আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। আপনার বয়সের অনুপাতে 55 টাকা থেকে শুরু করে 200 টাকা পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিতে হতে পারে। এরপর যোজনা সুবিধা অনুসারে 60 বছর পর থেকে প্রতি মাসে বছরে আপনার প্রাপ্য পেনশন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌছে যাবে। নাম নথিভুক্ত করার জন্য আপনার নিকটবর্তী যে কমন সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।