স্বাস্থ্যসাথী থাকলেই মিলবে “লক্ষী ভান্ডার” প্রকল্প! দেখে নিন কারা কারা পাবেন এই সুবিধার লাভ, জারি নির্দেশিকা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজ্যের সমস্ত মহিলাদের জন্য ‘লক্ষীর ভান্ডার’ প্রকল্প নিয়ে আসবেন। ২০২১ এর বিধানসভায় বিপুল ভোটে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি তার কথা রেখেছেন। এবার লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের শিশু সুরক্ষা ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর। শিশু সুরক্ষা ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে সাধারণ মহিলাদের প্রত্যেক মাসে ৫০০ টাকা করে ও SC/ST মহিলাদের প্রত্যেক মাসে ১০০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছে। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম বিধি লাগু করা হয়েছে। গত ৩০ শে জুলাই এর নির্দেশিকা অনুসারে জানানো হয়েছে যে—

১) স্বাস্থ্যসাথী স্কিমে যে সমস্ত মহিলারা ইতিমধ্যেই নথিভূক্ত হয়েছেন, কেবলমাত্র সেই সমস্ত মহিলারাই লক্ষীর ভান্ডার এর সুবিধা পাবেন।

২) লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প সুবিধা গ্রহণ করতে গেলে রাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে সেই মহিলাকে। বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

৩) সরকারি কর্মচারী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কেন্দ্র বা রাজ্যর বা সরকারি নিয়ন্ত্রিত কোন সংস্থা পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটি, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে যদি কেউ নিয়মিত বেতন বা পেনশন পান তারা এই সুযোগ সুবিধা পাবেন না।

লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প

৪) আর্থিক সুবিধা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে এক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আঁধার লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।

৫) দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে বিনামূল্যে অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম পাওয়া যাবে।

৬) এক্ষেত্রে যদি আবেদনকারী স্বাস্থ্যসাথী বা আধার কার্ড না থাকে তাহলে তাকে প্রথমে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ দেয়া হবে সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী বা আধার কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

৭) দুয়ারে সরকারের মতোই এক্ষেত্রেও লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন গুলি সমস্ত সরকারি আধিকারিক রায় যাচাই করবেন।

৮) তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হলে গ্রামাঞ্চলের ব্লগ ডেভলপমেন্ট অফিসার এবং শহরাঞ্চলে সাব ডিভিশনাল অফিসার রা আবেদন পত্র গুলী পোর্টালে তুলবেন এবং সে ক্ষেত্রে যারা যোগ্য বলে বিবেচিত হবে তাদের নাম জেলাশাসকের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৯) কলকাতার ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিভাবে প্রযোজ্য তবে কলকাতা মিউনিসিপাল কমিশনার এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

১০) আবেদনকারী এই প্রকল্পের যোগ্য কিনা তা ঠিক করবে জেলাগুলির জেলাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন কমিশনার।

১১) আপনি যদি আবেদনের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন তাহলে আবেদনের আর্থিক সুবিধা স্থগিত রাখা হতে পারে।

গত শুক্রবার মুখ্য সচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী জেলাশাসক দের সঙ্গে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত বৈঠক করেন। বৈঠকে জানা যায় যেহেতু এই প্রকল্পটির প্রথম, সেক্ষেত্রে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রচুর ভিড় হতে পারে। তাই ওই ভিড়ের মধ্যে কোভিড বিধি যাতে মেনে চলা হয়, সেই বিষয়ে জেলা শাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্ন থেকে বলে জানা যাচ্ছে ।