Categories
কলকাতা নতুন খবর বিশেষ রাজ্য

জ্বর-সর্দি-কাশি হলে আসতে হবে না অফিস, সরকারি কর্মীদের হাজিরা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি..

পঞ্চম দফার এই লকডাউন অনেকটাই শিথিল করেছে সরকার। এই সময়টাকে আনলক 1.0 নাম দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে 8 জুন থেকে সমস্ত রাজ্য সরকারের অফিস থেকে শুরু করে বেসরকারি অফিস খোলার জন্য বলা হয়েছে। তাই সাধারণত অফিসে আসার জন্য নিরুপায় হয়ে ভিড় বাসে চাপতে হচ্ছে কর্মচারীদের। বাসে সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রাখার কথা বারবার বলা হলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ রাস্তাঘাটে একে কম বাস চলছে তারপর আবার মানুষের সঠিক টাইমে পৌছাতে হবে অফিসে।

 

 

সব মিলিয়ে যেন একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অফিসে আসা কর্মচারীদের জন্য কিছু কিছু নিয়ম করে দেয় রাজ্য সরকার। যেমন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সর্দি-কাশির কোন রকম উপসর্গ দেখা দিলে সেই কর্মচারীকে অফিসে আসার প্রয়োজন নেই। এছাড়াও যে সমস্ত কর্মচারীদের বাড়ি কনটেনমেন্ট জোনের মধ্যেই পড়ছে তাদেরকে বাড়িতে বসেই কাজ করতে হবে।

এছাড়াও ওই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একদিনে কতজন কর্মচারী কাজ করতে পারবে সেই সংক্রান্ত তথ্য দেয় নবান্ন। এমন কী কর্মচারীদের কিভাবে অফিসে বসানো হবে সেই সংক্রান্ত ফরমান জারি করে রাজ্য সরকার। আসুন দেখে নেওয়া যাক রাজ্য সরকার ঠিক কেমন ভাবে সরকারিভাবে সরকারি দপ্তরে কাজ চালানোর জন্য বলেছেন –
1. সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এমন কর্মচারী শুধুমাত্র অফিসে আসবেন। প্রত্যেক কর্মীদেরই একদিন অন্তর অন্তর অফিসে আসতে হবে।

 

 

2. যে সমস্ত কর্মচারীদের বাড়ি কনটেইনমেন্ট জোনের মধ্যে রয়েছে তাদের এলাকার যতদিন না পর্যন্ত নিরাপদ ঘোষণা করা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বাড়িতে বসেই কাজ সারতে হবে তাদের।
3. যে সমস্ত কর্মচারীরা উঁচু পদে কাজ করেন এবং অফিসের মধ্যে নিজস্ব কেবিন রয়েছে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসতে হবে।
4. কমপক্ষে 10 জনের বেশি কর্মী একই জায়গায় থাকতে পারবেন না। এছাড়াও একই টেবিলে কথা বলা কর্মচারীদের মধ্যে অন্তত দু-মিটার দূরত্ব থাকতে হবে।

5. অফিসে কর্মীদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, মাউস, এসি রিমোট এই সমস্ত কিছু নিজেদেরকে নিয়ম মেনে স্যানিটাইজ করতে হবে।
6. অফিসে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও কাজের মাঝে বারবার হাত ধুতে হবে এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। যদি কোন কর্মচারী অফিস মাস্ক না পরে আসেন তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
7. অফিসে সমস্ত কর্মচারীরা স্পর্শ করেন এমন কিছু কিছু (দরজার হাতল, লিফটের সুইচ, ইলেকট্রিক সুইচ ইত্যাদি) 15 দিন অন্তর অন্তর স্যানিটাইজ করতে হবে। এছাড়াও লিফটে তিন জনের বেশি উঠা যাবে না।

 

 

8. মুখোমুখি বসে মিটিং করা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। খুব প্রয়োজন হলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মিটিং সারতে হবে।

9. যে সমস্ত কর্মচারীরা বাড়িতে বসে কাজ করবেন তাদের কাছে যদি সেরকম ভাবে কাজ করার সুবিধা না থাকলে সরকারি আইটি কর্মীদের সাহায্যে সেই ব্যবস্থা করতে হবে কর্মচারীকে।