তৃণমূল সরকার লড়াই না করলে PM KISAN র টাকা পেতেনই না বাংলার কৃষকরা, দাবি মমতার

বিধানসভা ভোটের সময় একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা গেছিল PM-KISAN এর নাম।প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্প নিয়ে আগেই বিস্তর রাজনীতি চলেছে। এ রাজ্যে কেন্দ্রে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে , যে বাংলার কৃষক দের কেন্দ্রের সুবিধা নিতে সাহায্য করছে না তৃণমূল সরকার। অন্যদিকে রাজ্যে তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যে ইতিমধ্যে কৃষকদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সুবিধা না দিলেও চলবে। যদিও কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়পক্ষই কৃষকদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার জন্য বরাবরই উদ্যোগী হয়েছে।

তবে রাজ্যে তরফ থেকে কৃষকদের তালিকা না পাঠানোর ফলেই কেন্দ্রের প্রকল্পে রাজ্যের কৃষকদের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব হচ্ছিল না। এরপর যদিও বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের সময় PM-KISAN প্রকল্পের কথা বারবার শোনা গেছিল বিজেপির নেতাদের গলায়। বিজেপি অবশ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করলে কৃষকদের বকেয়াসহ সমস্ত কিস্তি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। তবে বিজেপি ক্ষমতা না আসায় বকেয়া কিস্তি না মিললেও সম্প্রতি কালের কিস্তি গুলি আস্তে আস্তে পেতে শুরু করেছে রাজ্যের কৃষকেরা।

আগস্ট মাসের প্রথম কিস্তি সোমবারই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রায় ২০ কোটি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি তাকা জমা পড়েছে। এই টাকা ঢোকার দুদিন আগে অবশ্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কৃষকদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখেন। যেখানে জেলাশাসকের মাধ্যমে বাংলার প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের PM KISAN প্রকল্প থেকে বাংলার কৃষক বন্ধু কতটা কার্যকরী।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী এও লিখেছেন যে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কেন্দ্র বাংলার কৃষকদের টাকা দেওয়া থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। রাজ্য সরকারি লড়াই করে প্রাপ্য টাকা আদায় করে এনেছে সেই লড়াইয়ের জন্যই বর্তমানে কিছু সংখ্যক কৃষকেরা PM-KISAN এর টাকা পাচ্ছেন। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন ‘আপনাদের প্রাপ্য ছিল ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু অনেকটাই বর্তমানে কম পাচ্ছেন। আপনারা এতটুকুও পেতেন না যদি আমরা লড়াই না করে আসতাম। তবে চিন্তা করবেন না আপনাদের প্রাপ্য টাকা আদায়ের জন্য আমরা লড়াই চালাতে থাকবো’।