রাজ্য সরকার পরিস্থিতি সামালে ব্যর্থ হলে, জারি করা হবে রাষ্ট্রপতি শাসন হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার…

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে যখন থেকে রাষ্ট্রপতির সই হয়েছে তখন থেকে বাংলার পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠেছে। আর এবার এমন এক পরিস্থিতি দেখে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা দিলেন রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে দিলেন রাজ্য সরকার যদি এই পরিস্থিতির সামাল দিতে না পারে তাহলে বাংলায় জারি করা হবে রাষ্ট্রপতি শাসন।এদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন আমরা কোন নির্বাচিত সরকারকে ফেলতে চায় না তবে যদি এইভাবে অগ্নিগর্ভ অবস্থায় আর কয়েকটা দিন জ্বলতে থাকে বাংলা তাহলে আমাদের বাধ্য হয়ে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হবে।

আর নতুন বছরের শুরু হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে। একথা কারও জানতে বাকি নেই যে সংসদে দুই সভাতেই এই নাগরিকত্ব সংশোধন বিলটি পাশ হয়ে গেছে তারপর গত বৃহস্পতিবার দিন রাতে এরমধ্যে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তবে শুক্রবার দিন দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জানিয়ে দেন যাই হয়ে যাক বাংলায় নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগ করতে দেবেন না তিনি। তারই সাথে তিনি একথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন কেন্দ্র সরকার এই আইন বানাতে পারে কিন্তু সেটা রাজ্যে কার্যকর হবে কিনা তা ঠিক করবে রাজ্য সরকারই।

এই আইন পাস হওয়ার পরই বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যেমনটা লক্ষ্য করা গেছে মুর্শিদাবাদের লালগোলা ও কৃষ্ণপুরে যেখানে চারটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সেখানকার উত্তেজিত জনতা। আর মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর আক্রান্ত হয়েছে ট্রেনচালক ও রেলকর্মীরা। অন্যদিকে হাওড়ার এক্সপ্রেসওয়েতে সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা।তারপরে এরকম এক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে। এরই সাথে ফেলা হয়েছে কাঁদানে গ্যাসের শেলও।

আর এরকম পরিস্থিতি যদি আরো কয়েকদিন জ্বলতে থাকে বাংলা তাহলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে এরকম মন্তব্য করলেন বেজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা।একই সাথে তিনি এরকম এক অশান্তি ঘটনার জন্য দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতাদের। তারই সাথে এই অবস্থার প্রতিবাদে পাল্টা মিছিলের ডাক দেয়া হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে আগামী 23 শে ডিসেম্বর শান্তির মিছিলের ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। তারপর গতকাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জানিয়ে দিয়েছেন হাতে আইন না তুলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদের কর্মসূচি পালন করার জন্য। এরই সাথে তিনি হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, বলেছেন এরকমভাবে যদি আইন হাতে তুলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরই সাথে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন পুলিশ থানা, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, পোস্ট অফিস, সরকারী দফতর, পরিবহনব্যবস্থা এগুলি হল সকল জনগণের সম্পত্তি।তাই সরকারি ও বেসরকারি কোন ধরনের সম্পত্তিতে যদি কোনরকম ক্ষতি হয় তাহলে রাজ্য সরকার কোন মতেই তা বরদাস্ত করবে না এই নিয়ে আইনত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

Related Articles

Close