দেশনতুন খবর

যদি তখন নেতাজি কংগ্রেসে থাকতেন দেশকে দুটি ভাগে বিভক্ত হতে দিতেন না জিন্না।

কংগ্রেসের সঙ্গে তার মতের অমিল হওয়াতে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে মুসলিম লিগে যোগ দিয়েছেন। 1936 সালে এই প্রস্তাব পেশ করে দিয়েছেন পৃথক দেশের জন্য। আবার সেই তিনি বলছেন, ” সুভাষ কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট হলে আমি পৃথক দেশ পাকিস্তানের কোন প্রস্তাবই করতাম না।” এই তিনি হলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এনার নাম হয়তো আমরা অনেকেই শুনেছি।আজও দুই দেশের মধ্যে মুম্বাইয়ে তার বাড়ির মালিকানা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে যদি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর থাকতেন তাহলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দুই দেশের বিভাজনের কথা কখনোই ভাবতেন না।1940 সালের একটি ঘটনা। তখন সবে সবে কংগ্রেস ছেড়ে ফরওয়ার্ড ব্লক তৈরি করেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তখন পুরো চেষ্টা চলছে যে অহিংস নীতি ছেড়ে বিদেশী শক্তির মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার।

আর ঠিক এই সময়ে তখন আলোচনা হচ্ছে দেশভাগ নিয়ে।কোন দিকে কারা যাবে তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। ঠিক এমনি এক পরিস্থিতিতে তখন জিন্নার মুম্বাইয়ের বাড়িতে হোয়াইট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, মৌলানা আবুল কালাম আজাদসহ আরো বিশিষ্ট পাঁচজন। আর ওই বৈঠকের মাঝেই জিন্নাহ একটা কথা বলেছিলেন, নেতাজি যদি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে থাকতেন তাহলে পাকিস্তান দেশ গড়ার কথা ভাবলেও আমি তা থামিয়ে দিতাম। যেহেতু তা হয়নি তাই,আমিও কিছু করতে পারবো না।কিন্তু যে জিন্না পাকিস্তান নিয়ে সরব হয়েছেন সেই জিন্না নেতাজির জন্য নিজের সমস্ত স্বার্থ ভুলে এই কথা কিভাবে বলতে পারছেন।অরিনিভাস গুপ্তার একটা লেখা থেকে জানা যায় যে,” কংগ্রেসের নীতি নিয়ে মতান্তর হয়েছিল জিন্নার। প্রসঙ্গ আলাদা হলেও কংগ্রেসের সাথে মতের মিল হয়নি নেতাজির। আর এই কারণেই জিন্না নেতাজির দিকে হেলে ছিলেন।

আবার 1947 সালে মুসলিম নবাব সিরাজউদ্দৌলার হয়ে কথা বলাও জিন্নাকে নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা বাড়িয়ে তুলেছিল। আর এই কারণে নেতাজির দল না ছাড়লে পাকিস্তান তৈরীর প্রস্তাব তুলে নিতেও পারতেন জিন্নাহ।” নেতাজি সুভাষ জাগরণ মঞ্চের সদস্য মৃন্ময় রায় বলেন,” 1938 সালে নেতাজী ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। আবার 1939 সালে তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য ত্রিপুরার আসনে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনেই গান্ধীজি পট্টভি সিতারামাইয়াকে সমর্থন করেছিলেন।এই নির্বাচনের ফলাফল শোনার পর গান্ধী বলেন,” পট্টভির হার মানেই আমার হার”। কিন্তু নেতাজি নির্বাচনে জীতেও ঠিকভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। নেতাজি সুভাষ জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা বলছেন, নেতাজি কাজ করতে পারেননি তার কারণ হলো গান্ধীজীর অনুগামীরা নেতাজির কাজে বাধার সৃষ্টি করছিল।

আর ঠিক এই সময়ই গোবিন্দ বল্লভ পন্থ একটি প্রস্তাব পেশ করেন, ” কংগ্রেসের কার্যনির্বাহক পরিষদকে আবার নতুন করে তৈরি করা হোক।” এইভাবে সুভাষচন্দ্র বসু নির্বাচনে জিতলেও গান্ধীজির বিরোধিতার কারণে তাকে পদত্যাগ পত্র জমা দিতে বলা হয়। আর এই কথা যদি নেতাজি না শোনে তাহলে কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য পদত্যাগ করবে। আর নেতাজির কাছে এই অপমান সহ্য করা অসম্ভব ছিল বলে জানিয়েছেন নেতাজি প্রেমি সদস্যরা। ঠিক এই কারণেই নেতাজি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করে।
1947 সালে নেতাজি সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে সরব হন।


সেখানে তিনি অন্ধকূপ হত্যার মনুমেন্টটিকে রাখতে ইচ্ছুক নয়। আর এটাই অনেক মুসলিম তার সাথে যোগ দেন। সুভাষ জাগরণ মঞ্চের দাবি, ” নেতাজির সাম্প্রদায়িক ভাবে দেশকে এক করে তুলতে চাইছেন। আর অপরদিকে ইংরেজরা চাইছেন ভাঙন। তারপর নেতাজি গ্রেপ্তার হন।” এরপর নেতাজিকে কড়া পাহারার মধ্যে নজরবন্দি করে রাখা হয়। তারপরেই মুম্বাইয়ের মালাবার হিলসে বৈঠক করা হয়। বল্লভ ভাই প্যাটেল এবং আবুল কালামসহ আরো পাঁচজন ছিলেন ওই বৈঠকে। আর আজাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দ বল্লভ পন্থ। এই গোবিন্দ বল্লভ পন্থ এই নেতাজির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ছিলেন।

Related Articles

Back to top button