IAS Success Story: প্রী পরীক্ষায় দু’বার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও হাল ছাড়েনি অঞ্জলি, তৃতীয়বার টপার লিস্টে লেখান নাম

ব্যর্থতা আমাদের জীবনের অঙ্গ । কিন্তু সেই ব্যর্থতার পর সাফল্যের সিঁড়িতে চড়তে পারার আনন্দ অপরিসীম৷ তার জন্য প্রয়োজন একাগ্রতা আর কঠোর পরিশ্রম। সাফল্যর আর কোনও বিকল্প নেই।  নেই কোনও শর্টকার্ট। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা সফল হয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাতেই  নানা সময়ে উঠে এসেছে সাফল্যের জন্য হার না মানার এই কথা।

 

প্রতিযোগিতা যেখানে চরম, সেখানে সফল হতে গেলে  যে  চূড়ান্ত পরিশ্রম করেই সফলতা পেতে হবে তা আর নতুন কী! সেই প্রতিযোগিতা যদি হয়  IAS, তাহলে প্রস্তুতির জন্য পরিশ্রম ঠিক কতটা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।  তবে, নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে IAS-র দরজা পেরোতে সফল হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের কাছ থেকে প্রস্তুতির  সেই লড়াইয়ের গল্প শুনলে কঠিন রাস্তাটা সুগম মনে হতে পারে৷ আজ জেনে নিন  IAS অঞ্জলির লড়াই এর কাহিনি।

২০১৭ সাল। সাফল্যের শীর্ষ এর ক্রমতালিকায় তার  স্থান ২৬। তবে এমনি এমনি এই সাফল্য আসেনি। দু-দু’বার তিনি প্রিলি কোয়ালিফাই করতে পারেননি। ফিরে আসার জেদ আর একাগ্রতা ছিল প্রবল৷ তাই দেখিয়ে দেন তৃতীয়বারেই। একেবারে চূড়ান্ত তালিকার শীর্ষে নাম তুলে ফেলেন।কেরলের মেয়ে অঞ্জলি। পড়াশোনা কেরলেই।

পড়াশুনা শেষে চাকরি করতেন। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার  জন্য চাকরি ছাড়েননি। তিন বা চারবছর ধরে প্রস্তুতি-পর্ব চলেছে। সফল না হলেও কোনওদিনই চাকরি ছেড়়ে দেওয়ার কথা মাথায় আনেননি। চাকরির জন্য প্রস্তুতিতে ঘাটতি হচ্ছে, এমনটা তিনি মনে করেননি৷  উল্টে, তার মনে প্রতিজ্ঞা ছিল,  চাকরি করতে করতেই পরীক্ষা দেবেন। এভাবেই সফল তাঁকে হতে হবে।

চাকরি চলতে থাকে। সঙ্গে চলতে থাকে প্রস্তুতিও। সারাদিন সময় নেই৷ তাই রাতে পড়তেন। রাতে পাঁচ-ঘণ্টার বেশি পড়তেন না অঞ্জলি। এভাবেই পরীক্ষা দিলেন৷  তবে দু’বারই অসফল। খুব কাছে এসেও প্রিলিতে পাস করতে পারলেন না।  অনেকেই এই অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েন। হাল ছেড়ে দেন৷ যখন হাতে একটা চাকরি রয়েছে। অঞ্জলি আরও জোরদার করেন প্রস্তুতি। তার ফলও মেলে হাতেনাতে। পরের বছর করলেন  বাজিমাত। একেবারে চূড়ান্ত পর্বে সফল।

করিনা কাপুর প্রকাশ করলেন দ্বিতীয় পুত্রের ছবি, নেটদুনিয়ায় লাইক ও কমেন্টের বন্যা

 

অঞ্জলির পরামর্শ

প্রিলি অথবা মেনস। প্রচুর  বই জোগাড় করে ফেলে বই এর চাপে হতাশ না হয়ে যতটা সম্ভব কম সংখ্যক বই বেশিবার পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অঞ্জলি। পরীক্ষার আগে যতবেশি সম্ভব মক টেস্ট দেবেন ততই ভালো সেই  পরামর্শও দিয়েছেন। এতে স্পিডও বাড়ে। প্রস্তুতির ঘাটতি গুলো বুঝতে পারেন পরীক্ষার্থী। তবে সব প্রশ্নের উত্তর যে দেওয়া সম্ভব তা নয়। কমন সেন্স প্রয়োগ করে  প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। উত্তর লেখার আগে প্রত্যেক প্রশ্ন খুব ভালো করে পড়া  উচিত।

 

পরীক্ষার্থী কখন পড়বেন সেটা নিজের সুবিধা মত  সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। কাউকে অনুসরণ না করে,  নিজেকেই সময় বুঝে নিতে হবে।মন দিয়ে চেষ্টা করলে লক্ষ্যে  পৌঁছানো যাবে। নিজের যেটা ঠিক মনে হবে, সেটা ধরে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবেই এমনটাই মনে করেন অঞ্জলি৷