২০১৯ সালে প্রথম শুনেছিল IIT-এর নাম, ২০২১ সালে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, মন জয় করবে দিনমজুরের ছেলে

পড়াশোনা এমন এক বিষয় যা এক নিষ্ঠার দ্বারা করার ফলে সাধারণ থেকে কোন মানুষ হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ। এমনই এক অবিশ্বাস্যকর ঘটনা ঘটলো তামিলনাড়ুতে। এখানকার এক শ্রমিকের ছেলে জাতীয় কবি রামধারী সিং দিনকরের ‘বীর’ কবিতার লাইন গুলোকে সত্য করে তুলেছে। সমস্ত প্রতিকূলতাকে পরাজিত করার পরে, এই ছাত্রটি প্রথম প্রচেষ্টাতেই JEE Advanced ২০২১ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক ২৫০৩ করে এই শিক্ষার্থী সকলকে বুঝিয়ে দেন যে সত্যিকারের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম একজন মানুষকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়।

১৭ বছর বয়সী কে. পি. অরুণ কুমারের নাম শীঘ্রই ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। ত্রিচি জেলার একটি ছোট গ্রাম কারাডিপট্টির অরুণ কুমারের কাছে কিছু সীমিত বইপত্র ছিল পড়াশুনা করার জন্য এবং সেই সব কিছু দিয়েই অধ্যয়ন করে তিনি এমনটি করেন যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

NIT-Trichy-র মাধ্যম থেকে সাহায্য- অরুণ কুমার বলেছিলেন যে তিনি IGNITTE কোচিং থেকে সাহায্য পেয়েছেন, NIT ত্রিচির একটি সুবিধা৷ এই সুবিধা আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রদের আইআইটি পরীক্ষা দিতে ও পাশ করতে সাহায্য করে।

ত্রিচির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালিত প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন অরুন-

অরুণ কুমার জেলা পর্যায়েও তার প্রতিভা প্রদর্শন করেছিলেন। অরুণ ত্রিচি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত প্রবেশিকা পরীক্ষাও পাশ করেছিলেন এবং তার পরে তিনি ২০১৯ সালে JEE কোচিংয়ে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে, অরুণ কোচিংয়ে ফোনের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিট পড়াশোনা করতে পারতেন। পরে বাবা এন.পোনালাগান ১০০০০ টাকায় স্মার্টফোনটি কিনে দেন।

২০১৯ সালে IIT সম্পর্কে জানতে পারে অরুণ, ২০২১ সালে পরীক্ষায় পাস করেছেন তিনি-

২০১৯ সাল পর্যন্ত IIT পরীক্ষা সম্পর্কে অরুণের কোনো ধারণা ছিল না। ছেলেকে লেখাপড়া করার জন্য তার বাবা ছোট-বড় অনেক কাজ করতেন। অরুণ ভালো প্রাইভেট স্কুলে পড়তে না পারলেও তার বাবা তাকে সরকারি স্কুলে পড়ান। আর অরুণ তার নিজের মনের উদ্যম চেষ্টা ও জেদের ফলেই IIT ২০২১ এই পাস করে যান ভালো র‍্যাঙ্ক নিয়ে।