নতুন খবরবিশেষরাজ্যলাইফ স্টাইল

অনলাইনে কীভাবে নেওয়া হবে ক্লাস? তাছাড়া স্কুল খুললে মানতে হবে কী কী নিয়ম! সেই বিষয় মত প্রকাশ রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের..

করোনা পরিস্থিতির জেরে আগস্ট মাসেও বন্ধ রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজ গুলি। ফলে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস করানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই শিক্ষকদের। তবে অনলাইনের মাধ্যমে কীভাবে ক্লাস করাবেন শিক্ষক- শিক্ষিকারা সেই বিষয়ে উঠছে প্রশ্ন। শুধু তাই নয় আরেকটি বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে যেটি হল, করোনা পরবর্তী সময়ের পর যখন স্কুল কলেজ খুলবে তখন ক্লাস রুমের মধ্যে কীভাবে ক্লাস করাবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাই সরকারের তরফ থেকে একটি অভিনব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এবার থেকে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর এর তরফ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য ভার্চুয়ালি প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। কারণ সরকারের তরফ থেকে মনে করা হয়েছে যে অনলাইনে ক্লাস করানোর জন্য শিক্ষক- শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তাই রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, সিলেবাস কমিটি এবং সর্বশিক্ষা মিশনের উদ্যোগে চলতি সপ্তাহ থেকেই শিক্ষক- শিক্ষিকাদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই নবম এবং দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের কীভাবে ক্লাস নেওয়া হবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার জানিয়েছেন যে,’ সাধারণত আমাদের তরফ থেকে বিভিন্ন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য এখন এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। করোনা পরিস্থিতির ফলে ছাত্রছাত্রীরা পিছিয়ে পড়বে তা হতে পারে না। তাই অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে ছাত্র- ছাত্রীদের আরো ভালোভাবে পড়াতে পারে তার জন্য ভার্চুয়ালি শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে।।

এছাড়াও লকডাউন এর পরবর্তী সময়ে যখন স্কুল কলেজ খুলবে তখন ছাত্র-ছাত্রীদের কিভাবে ক্লাস নেবেন সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে শিক্ষক দিবসে পর থেকে খুলবে স্কুল-কলেজ। তবে টানা চার মাসেরও বেশি সময় ধরে স্কুল-কলেজে পঠন-পাঠন বন্ধ থাকায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ছাত্রছাত্রীরা। কিছু কিছু বেসরকারি স্কুল গুলিতে অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।এছাড়াও কিছু কিছু সরকারি স্কুলগুলিতেও শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এমন কিছু গ্রামাঞ্চল আছে যেখানে অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব নয়।

এছাড়াও অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সময় কী কী বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে কোন কোন বিষয়গুলিকে এবং কোন কোন অধ্যায় গুলিকে কে প্রাধান্য দিতে হবে সেই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সরকারের তরফ থেকে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে আপাতত নবম এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের অনলাইনে এবং পরবর্তীকালে স্কুল খুললে কীভাবে ক্লাসরুমে ক্লাস করাতে হবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে শিক্ষক- শিক্ষিকাদের। এ বিষয়ে সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার জানিয়েছেন যে,’ নবম এবং দশম শ্রেণীকে বেছে নেওয়ার কারণ হল দশম শ্রেণীতে বোর্ডের পরীক্ষা হয়।


আর নবম এবং দশম শ্রেণীর পঠন-পাঠনে অনেকটা মিল রয়েছে তাই এই দুটি শ্রেণীকে এখন আপাতত বেছে নেওয়া হয়েছে।’ শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে প্রতিটি জেলার চারজন করে শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ওই চারজন শিক্ষক আবার বাকি শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এই পুরো প্রশিক্ষণটি হবে ভার্চুয়ালি। এছাড়া খুব তাড়াতাড়ি টেলিফোনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করতে চলেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

Related Articles

Back to top button