Categories
নতুন খবর বিশেষ লাইফ স্টাইল

কীভাবে বুঝবেন কেউ Depression এর শিকার হয়েছেন কীনা, ডিপ্রেশনের হাত থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে যা যা করণীয়..

মানসিক অবসাদ বা যাকে আমরা ডিপ্রেশন (depression) বলি সেটি কতটা ভয়ানক তা আমরা এর আগে বহুবার প্রমাণ পেয়েছি। এই মানসিক অবসাদ বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। গত রবিবারেই বলিউড ইন্ডাস্ট্রির এক তারকা মানসিক অবসাদের কারনে নিজের জীবন দিয়ে দিলেন। সুশান্ত সিং রাজপুত মাত্র 34 বছর বয়সে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেন। পরে জানা যায় তিনি নাকি বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তাই এমন সিদ্ধান্ত। এনার মতো কতজন আছে যারা প্রতিনিয়ত মানসিক অবসাদে ভুগছেন।

দেশের আনাচে-কানাচে কত প্রাণ যাচ্ছে এর জন্য, তার কোন ঠিক নেই। এবার আমরা নীচে আলোচনা করবো যে দূর থেকে কোনো ব্যক্তিকে দেখে কীভাবে বুঝবেন তিনি অবসাদে ভুগছেন। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা মনে রাখবেন নীচে যে সমস্ত লক্ষণ গুলি নিয়ে আমরা আলোচনা করব তার মধ্যে পাঁচটি বা তার বেশি লক্ষণ যদি একটি মানুষের ওপর টানা দুই সপ্তাহ ধরে দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে তিনি অবসাদে ভুগছেন।

 

 

1. কোন মানুষ যদি অবসাদে ভোগেন তাহলে তিনি সব সময় নেতিবাচক দিকটি ভাবেন। ভাবেন তিনি এখন যে পরিস্থিতি রয়েছেন তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী সে নিজে।এমন ভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর ওই ব্যক্তির মনে নিজের অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা আসতে শুরু করে।

2. অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি তার জীবনের ভালো লাগা বা ইচ্ছে কিছুই করতে মন যাবে না। আনন্দ কী জিনিস তা একদমই ভুলে যায় যখন কোনো ব্যক্তি অবসাদে থাকে।

3. ক্ষুধার্তের উপর প্রভাব ফেলে এই অবসাদ। অবসরে থাকাকালীন কোন ব্যক্তির অনেক সময় একদমই খিদে পায় না আবার অনেকেই সবসময় ক্ষুধার্ত বোধ করেন।

 

4. মানসিক অবসাদগ্রস্ত কোন ব্যক্তি সাধারণত দুটি সময়ের মধ্য দিয়ে যায়। কখনো কোনো কিছুতেই তাদের খুশি, দুঃখ, রাগ কোনটাই হয় না আবার অনেক সময় হঠাৎ করে প্রচন্ড পরিমানে রেগে যাবে বা ভীষণভাবে খুশি হতে পারে। খুশি হলে এতটাই খুশি হবে যে তার আবেগের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

5. নিজের জীবনের প্রতি একটা তাচ্ছিল্য ভাব চলে আসে অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে। তারা ভাবতে শুরু করে যা ঘটছে ঘটুক। এর ফলে অনেকেই নিজের জীবনে বিপদ ডেকে আনে।

6. তারা আসলে ভালো আছে না খারাপ আছে সেই প্রশ্নের উত্তর তারা নিজেরাও জানেন না। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে তাহলে মনে হয় যেন জোর করে বলছে যে সে ভালো আছে। কিন্তু এই প্রশ্ন যখন নিজেই নিজেকে করবে তখন তার উত্তর দিতে ভয় খাবে।

7. অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা ইচ্ছে করেই নিজের উপর অনেক দায়িত্ব নিয়ে নেন যাতে অন্য কিছু ভাবার সময় না থাকে তার কাছে। এর ফলে সারাদিনে সেই কাজ করার পর ক্লান্ত হয়ে যায় ফলে দিনের শেষেও ভাবার সময় পাবেনা অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি।

8. অনেক সময় নিজেকে আড়াল করতে হঠাৎ করে রেগে যান তারা। এতটাই রেগে যান যে সামনে থাকা জিনিসপত্র ছুঁড়ে দেয় বা চিৎকার করে। এর ফলে মাঝে মাঝে তারা নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে দেন।

 

আপনার আশেপাশে কোন ব্যক্তি যদি ডিপ্রেশনের শিকার হয় তাহলে কী করবেন?
যদি দেখেন আপনার আশেপাশে কোন ব্যাক্তি ডিপ্রেশনের শিকার হয়েছে তাহলে তার সাথে যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন কথা বলার। তাকে কোনভাবে একা ছাড়া চলবে না কারণ সেই সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতন খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন যেকোন সময়। ওই ব্যক্তি নিজের প্রতি যে বিশ্বাসটা হারিয়ে ফেলেছে তাকে আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন বিভিন্ন কথাবার্তা বলার মাধ্যমে। এরপর যদি দেখেন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে এগোচ্ছে তাহলে পেশাদার মনোবিদের সাহায্য নিতে পারেন।

 

যদি আপনি নিজেই ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে থাকেন তাহলে কি করবেন?
আমাদের জীবন সংগ্রামে এমন অনেক সময় আছে যখন কোন সমস্যার সমাধান করতে পারিনা। বা সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয় না। একটা কথা মনে রাখবেন যদি আপনি এরকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তাহলে নিজের বিশ্বাসকে কোনমতে হারাবেন না। আপনার সমস্যার সমাধান আপনি নিজেই করতে পারবেন। খারাপ সময় এলে তার সাথে লড়াই করে যান। আর নিজেকে সবসময় ভালো রাখার চেষ্টা করুন। নিজের কাছের মানুষগুলোর সাথে সেই সম্পর্কে আলোচনা করুন দরকার পড়লে কোন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।