ইরফান খান মৃত্যুর পর তার পরিবারের জন্য কত সম্পত্তি রেখে গেছেন..

বলিউডের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা ছিলেন ইরফান খান যিনি গত বুধবার দিন মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। এই বলিউড অভিনেতার ব্রেন টিউমার হয়েছিল এবং গত মঙ্গলবার দিন কোলন ইনফেকশন বাড়ার দরুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইরফান খান এমন একজন অভিনেতা ছিলেন যিনি যে কোন চরিত্রে অভিনয় করার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন। আর তার এভাবে অকাল মৃত্যুতে বলিউড জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং দেশের অনেক বড় বড় অভিনেতা টুইট করে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এর পাশাপাশি সমবেদনা জানিয়েছেন তার পরিবারের প্রতি। ইরফান খানের পরিবারে তার স্ত্রী সুতপা শিকদার ও দুই ছেলে বাবিল ও আয়ান রয়েছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক ইরফান খান তার মৃত্যুর পরে তার পরিবারের জন্য কত সম্পত্তি রেখে গেলেন।সংবাদ মাধ্যমে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী এই বলিউড অভিনেতা ইরফান খান মোট 321 কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ছিলেন।থিয়েটার জগত থেকে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করা ইরফান খানের রোজগারের পথ ছিল চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন।

অভিনয়ের পারিশ্রমিক ছাড়াও ইরফান খান তার চলচ্চিত্রের লাভের কিছু অংশ নিয়ে যেতেন। মুম্বাই এর একটি বাড়ি ছাড়া জুহুতে ইরফান খানের একটি ফ্ল্যাটও ছিল। ইরফান খানের নাম সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া বলিউড অভিনেতাদের মধ্যে গণনা করা হত। ইরফান খান একটি চলচ্চিত্রের জন্য 15 কোটি টাকা পারিশ্রমিক হিসাবে নিতেন। এ ছাড়া একটি বিজ্ঞাপনে তাঁর ফি ছিল 4 থেকে 5 কোটি টাকা। এছাড়া ইরফান খানের ব্যক্তিগত বিনিয়োগও ছিল 110 কোটি টাকা।

বিলাস বহুল গাড়ির শখ রাখতেন তিনি, তার মালিকানায় রয়েছে টয়োটা সেলিকা, বিএমডাব্লু, ম্যাসেরটি কোয়াট্রোপোর্ট এবং একটি অডি গাড়ি, যার মোট খরচ তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা।ইরফান খান সামাজিক কাজের জন্য প্রচুর সহযোগিতা করেছিলেন, এর পাশাপাশি তিনি অনেক বড় বড় হলিউড ছবিতেও অভিনয় করেছেন। ইরফান খান 2018 সালে জানতে পারেন তিনি নিউরোইন্ডোক্রাইন টিউমারে আক্রান্ত। তার এই অসুস্থতা ধরা পড়েছিল 2018 সালের মার্চ মাসে। এর জন্য তিনি লন্ডনেও চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারপর 2019 এর এপ্রিল মাসে তিনি ভারতে ফিরে আসেন, ফিরে আসার পরে ইরফান ‘ইংলিশ মিডিয়াম’ ছবিটির শুটিং করেছিলেন।

মূলত রাজস্থান থেকে আসা ইরফান ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার ছাত্র ছিলেন। ছোট পর্দায় তিনি ‘ভারত এক খোজে’ ছবিতেও কাজ করেছিলেন। এরপরে তিনি চলচ্চিত্রে হাজির হন। ‘মকবুল’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘দ্য লাঞ্চ বক্স’, ‘পিকু’, ‘হিন্দি মিডিয়াম’, ‘হাসিল’, ‘পান সিং তোমার’ এর মতো চলচ্চিত্র তাঁকে এক আলাদা স্থানে পৌঁছে দিয়েছিল। বলিউডে এরকমভাবে এক নক্ষত্রের ইন্দ্রপতন ঘটাতে সকলকে একপ্রকার হতভম্বিত। চলচ্চিত্র জগতে তার যে স্থানটি ছিল তা কখনো কেউ পূরণ করতে পারবে না।