কীভাবে তালিবান জঙ্গিদের হাতে গেল আফগানিস্তান? তবে কোন পথে দেশের ভবিষ্যৎ? দেখে নিন বিস্তারিত

মার্কিন সেনা পুরোপুরি দেশ ছাড়ার দু সপ্তাহ আগেই আফগানিস্তান চলে গিয়েছে তালিবান জঙ্গিদের হাতে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে গোটা আফগানিস্তানবাসীকে। এই অবস্থায় আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা বদল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। যেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে নাম উঠে আসছে আলি আহমদ জালালির। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে কী করে তালিবানদের পক্ষে সম্ভব হল এই অসম্ভব যুদ্ধ-জয় করা।

কারণ তালিবানদের সেনার সংখ্যা আফগান সেনার তুলনায় অনেকটাই কম।আফগান সেনা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে অর্থ ব্যয় করেছে আমেরিকা ও সহযোগী ন্যাটো দেশগুলি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে,সেই টাকা সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহার করা হয়।২০১৪ সালে আমেরিকা জানিয়েছিল, তালিবানদের সৈন্যসংখ্যা কুঁড়ি হাজার মতো। আর সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী,বর্তমানে এই সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে ১লক্ষ হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তালিবানি সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ, যার মধ্যে ৬০ হাজার লড়াকু যোদ্ধা এবং ৯০ হাজার স্থানীয় যোদ্ধা রয়েছে। অন্যদিকে আফগান সৈন্যদলের দিকে তাকালে দেখতে পাওয়া যাবে তাদের শক্তি ছিল অনেকটাই বেশি। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী,আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীতে অফিসারের সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ ৫২ হাজার। এছাড়া রক্ষা মন্ত্রণালয়ে আর্মি, এয়ারফোর্স এবং স্পেশাল অপারেশন ফোর্স মিলিয়ে মোট আধিকারিকের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৭৮ জন।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, ১ লক্ষ ৩ হাজার ২২৪ জন ছিলেন।২০১৯ সালে ও সেখানে ১ লক্ষ ৮০ হাজার সৈন্য ছিল।এত সৈন্য এবং ন্যাটোর প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থাকা সত্বেও কেন হারল আফগানিস্তানে সেনা। জানা গিয়েছে, এর একটা বড় কারণ দুর্নীতি। অনেক ক্ষেত্রেই সেনা কমান্ডাররা জোয়ানের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে টাকা লুঠ করেছে। যার ফলে তালিবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উন্নত অস্ত্র পায়নি সেনাবাহিনী।

যুদ্ধ করতে গিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি খাবার। যার জেরে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে অনেক সেনাই। পরবর্তীকালে আমেরিকা আফগানিস্তান ছাড়ার কথা বললেই দ্রুত গতিতে বেড়ে যায় এই দুর্নীতি। এখন যার ফল ভুগতে হচ্ছে‌ গোটা আফগানিস্তানকে।