ভোটার তালিকায় নাম, জমির কাগজ সহ আরো 15 টি নথি নয় নাগরিকত্বের প্রমাণ একথা স্পষ্ট জানিয়ে দিল হাইকোর্ট…

কোন কোন নথিগুলি নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট তা নিয়ে সকলের মনেই সন্দেহ ছিল বা বর্তমানেও রয়েছে। এবার সেই সন্দেহ স্পষ্ট ভাবে দূর করে দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। গুয়াহাটি হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটার কার্ড জমির কাগজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট বা প্যান কার্ড, অভিভাবকদের এনআরসি ক্লিয়ারেন্স সহ 15 টি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যাবে না।প্রসঙ্গত অসমের এক মহিলাকে ট্রাইবুনাল বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার পর তিনি এ নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।

নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার জন্য ওই মহিলা একাধিক রাষ্ট্র প্রদত্ত নথি জমা দিয়েছিলেন হাইকোর্টে। কিন্তু হাইকোর্ট ওই মহিলার আবেদন খারিজ করে দেন। কিন্তু আবার আসামের বেআইনি ভাবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে জমির কাগজ এবং ব্যাংকের কাগজপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। আসামের এনআরসির তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে প্রায় 19 লক্ষ মানুষের নাম। তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া ঐ সমস্ত মানুষ গুলি এনআরসির তালিকা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রচুর চেষ্টা করেছেন এবং এ নিয়ে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে শুনানিও চলছে।

ট্রাইব্যুনালে তাকে বিদেশি ঘোষণা করে দেওয়ার পর জাবেদা খাতুন হাইকোর্ট একটি পিটিশন দাখিল করেন। তিনি নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য হাইকোর্টের যে 18টি নথি জমা দেন তার মধ্যে অন্যতম নথিটি ছিল, তাদের গ্রামের প্রদানের লেখা শংসাপত্র, যেখানে ওই মহিলার বাবা কে এবং স্বামীকে ওই গ্রামের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা ছিল।এরপর রায়ে হাইকোর্ট জানায়,’ প্যান কার্ড বা ব্যাংকের কোন নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে না।  সুতরাং এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে আমরাও তার সাথে একমত।’

ওই মহিলার আইনজীবী আহমেদ আলি বলেন,’ মক্কেলের তরফ থেকে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য আদালতে যে সমস্ত নথি দেওয়া হয়েছিল আদালত তাতে সন্তুষ্ট নয়। ওই নির্দেশের বলা হয়েছে, জাবেদা তার বাবা-মায়ের কোনো নথি আদালতে পেশ করতে পারেননি।’ হাইকোর্টের আরেক আইনজীবী সৈয়দ বুরহানু এ বিষয়ে বলেন,’1997 সালে ভোটের তালিকা তৈরি করার সময় জাবেদা তার স্বামীর নথি জমা দিয়েছিলেন। তার বাবা-মায়ের কোনো নথি সেখানে উল্লেখ ছিল না। ফলে ওই মহিলাকে ‘ডি’ ভোটার বা সন্দেহভাজনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেই সময়।

গ্রাম প্রধান তার নথিগুলি অনুমোদন দেওয়ার পরেও হাইকোর্টে কেনো তা গ্রাহ্য করা হলো না। তাই ফের আরেকবার এই নিয়ে জাবেদা আবেদন করতে পারেন। বর্তমানে ওই মহিলা তার ভাইয়ের নাগরিকত্ব এবং রাষ্ট্রপ্রদও সহ সমস্ত নথি জমা করতে পারেন। এবং তিনি যে ওই ব্যক্তির বোন তা ধারা 50 অনুসারে প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে তার কাছে।’

Related Articles

Close